দ্রব্যমূল্যের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতিতে আয় কমলেও খরচ বেড়েছে জুড়ীর চা বিক্রেতাদের। পরিবার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চা বিক্রেতাদের মতো ক্ষুদ্র আয়ের মানুষ।

ফজলু মিয়া মার্কেটের পেছনে চা বিক্রি করে ছয়জনের সংসার চালান জব্বার মিয়া। তিনি আক্ষেপ করে বললেন, আগে ৫০০-৭০০ টাকা লাভ হলেও এখন লাভ হয় ৩০০-৪০০ টাকা। পরিবারের ব্যয় বাড়লেও আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তাঁর দোকান চালানোর অভিজ্ঞতায় জব্বার মিয়া বলেন, 'আগে চিনির দাম ছিল ৫৫ টাকা এখন ১২০ টাকা। আগে চা-পাতার কেজি ছিল ২৬০ টাকা এখন ৩০০ টাকা। দুধ ও জ্বালানির দামও বেড়েছে। কিন্তু চায়ের দাম বেশি বাড়ালে বিক্রি কমে যাবে, তাই বেশি বাড়ানো যায় না।'

জব্বার মিয়ার দুই মেয়ে স্কুলে পড়ছে। সব মিলিয়ে আয়-ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব হচ্ছে না এ চা বিক্রেতার। শুধু জব্বার মিয়াই নন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জীবনযুদ্ধে আর কুলিয়ে উঠতে পারছেন না অনেকেই। চা বিক্রেতা বাবুল দেব, কৃষ্ণ দেব ও আব্দুল আজিজের কণ্ঠেও একই সুর। তাঁদের কথা, চা বিক্রি করে এক সময় সংসার চললেও এখন আর কিছুতেই দ্রব্যমূল্য বাড়ার চাপ নিতে পারছেন না।

আব্দুল আজিজ জানান, ঘরে তাঁর মা অসুস্থ। দৈনন্দিন সাংসারিক ব্যয় নির্বাহ নিয়েই যেখানে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়, সেখানে মায়ের চিকিৎসা করাবেন কীভাবে? তিনি আরও জানান, আলুর কেজি ৩০ টাকা, ফুলকপির কেজি ৬০ টাকা। শিম, টমেটোর কেজি ১০০- ১২০ টাকা। শসা ৫০ টাকা, কচুর মুখি ৬০ টাকা কেজি। এত দাম দিয়ে সবজি ক্রয় করে পরিবারের অন্যান্য খরচ চালানো কষ্টকর।

বিষয় : ক্ষুদ্র আয়ের মানুষ

মন্তব্য করুন