সোনারগাঁয়ের নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শামসুল আলম সামসুর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন ৮ সদস্য। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তাঁরা এ বিষয়ে লিখিত চিঠি দিয়েছেন। এ অভিযোগ পাওয়ার পর চেয়ারম্যানকে সহায়তা করার দায়ে ইউপি সচিব মাহমুদা খানমকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্রে ইউপি সদস্যরা উল্লেখ করেন, নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ এক শতাংশ টাকাও চেয়ারম্যান সঠিকভাবে বণ্টন করেননি। তিনি সদস্যদের বঞ্চিত করেছেন। এখন পর্যন্ত সরকারি ভাতাও দেওয়া হচ্ছে না। টিসিবির পণ্য সঠিকভাবে বণ্টন হচ্ছে না। পছন্দের লোকদের দেওয়া হচ্ছে।

তাঁদের ভাষ্য, জন্মনিবন্ধনের জন্য সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ফি আদায় এবং ভুয়া ওয়ারিশ সনদ দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন চেয়ারম্যান সামসুল আলম সামসু। এ ছাড়া রেজুলেশন না লিখেই সচিব মাহমুদা খানমের মাধ্যমে আগেই সই করিয়ে নেন তিনি।

অভিযোগপত্রে সই করেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আব্দুর রহিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. জহিরুল ইসলাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সেলিম মিয়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সাকিব, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মনিরুজ্জামান মনির, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মিনারা আক্তার, জায়েদা ও নাছিমা আক্তার। তবে এ ইউপির ২, ৩, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যরা এ অভিযোগপত্রে সই করেননি।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সেলিম মিয়ার ভাষ্য, 'আমাদের সব অভিযোগই সত্য। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান পরিষদের ভেতরে তাঁর লাইসেন্স করা ব্যক্তিগত পিস্তল দেখিয়ে আমাদের ভয়ভীতি দেখান।'

তবে এসব অস্বীকার করে নোয়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল আলম বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বরাদ্দের টাকাও সুষম বণ্টন হয়েছে।' এর পক্ষে তাঁর কাছে প্রমাণের সব কাগজপত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে ওই পরিষদের সচিবকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।