কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাবুল মিয়া (৩৩) নামে এক যুবককে তার শিশু পুত্রের সামনে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।  শনিবার সকাল ৮টায় কটিয়াদী পৌর এলাকার পশ্চিপাড়া আওয়াল মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত বাবুল মিয়া একজন ফেরিওয়ালা ও পৌর এলাকার পশ্চিমপাড়া (নদীর চর) মহল্লার মোতালীবের ছেলে।

অভিযুক্তর নাম নুরে আলম(৩০)। তিনি ওই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই,মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।   

জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে বাবুল মিয়ার ঘরে সিধ কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। ঘর থেকে তার মোবাইল ফোন ও বিদেশ যাওয়ার জন্য জমানো নগদ টাকা চুরি হয়। চুরির ঘটনার সময় বাবুল মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ (৮) চোরকে দেখে ফেলে। সকালে সে তার বাবাকে জানায় ঘরে চুরি করতে আসা দুইজনের মধ্যে প্রতিবেশি নূরে আলম ছিল। ছেলের বক্তব্যের ভিত্তিতে বাবুল মিয়া এলাকার কাউন্সিলরসহ কয়েকজনকে বিষয়টি জানান। এটা জেনে নূরে আলম ছুরি নিয়ে বাবুল মিয়াকে খুঁজতে থাকেন। সকালে বাড়ির নিকটবর্তী একশত গজ দূরে দোকানের সামনে বাবুল মিয়া তার ঘরে চুরির ঘটনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় তার ছেলে আব্দুল্লাহ বাবার সাথে ছিল। এ সময় নূরে আলম তার নামে বিচার দেওয়ার বিষয়টি জানতে চায়। পরে লোকজনের সামনে কথা না বলে তাদেরকে ডেকে ২০-২৫ গজ দূরে নিয়ে যান। সেখানে সন্ত্রাসী নূরে আলমের বাবা রইছ উদ্দিন, বড় ভাই ফজলুসহ তার পরিবারের আরো কিছু লোকজন অপেক্ষা করতে থাকে। বাবুলকে সেখানে নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে বাবুল মিয়ার গলায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে নুরে আলম। এ সময় বাবুলের ছেলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, বাবুলকে ছুরিকাঘাতের পর ছুরি হাতে তার বাড়িতে গিয়ে বাবুলের স্ত্রী ও ছোট ভাইকে তাড়া করে ছুরিকাঘাত করে জখম করে নুরে আলম। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নূরে আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি এসএম শাহাদত হোসেন জানান,অভিযুক্ত নূরে আলমকে আটক এবং নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে।