বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের মঞ্চেও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য খালি চেয়ার রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সমাবেশ মঞ্চের ঠিক মাঝখানে দুটি ফাঁকা চেয়ার রাখা হয়েছে। একটি চেয়ার খালেদা জিয়ার জন্য সাদা তোয়ালে দিয়ে আবৃত এবং অন্যটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য হলুদ তোয়ালে দিয়ে আবৃত।

এর আগে ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুরের গণসমাবেশেও খালেদা জিয়ার জন্য মঞ্চে খালি চেয়ার রাখা হয়। এবার বরিশালেও একই চিত্র দেখা গেল।

এদিকে শনিবার নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা আগেই বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ শুরু হয়।

তিলাওয়াত শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। একইসঙ্গে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে নিহত নেতাকর্মীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়। পরে দলের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য শুরু করেন।

গণসমাবেশ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাবেশের প্রধান বক্তা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার ছিল। কিন্তু শনিবার বেলা ১২টার আগে থেকেই বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। পরে নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা আগেই সমাবেশ শুরু হয়।

প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্বাচনকালীন সরকার, জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে নেতাকর্মী হত্যা, হামলা ও মামলার প্রতিবাদে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে গণসমাবেশ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুরের গণসমাবেশ করেছে বিএনপি। আজ বরিশালে দলটির পঞ্চম বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এছাড়া আগামী ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী এবং ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশ করবে বিএনপি। এর মধ্য দিয়ে বিএনপির তৃতীয় ধাপের কর্মসূচি শেষ হবে। এরপর নতুন কর্মসূচি আসবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।