সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক, সিলেট ল' কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস আ ফ ম কামাল হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আলোচনায় ছাত্রলীগ নামধারী আজিজুর রহমান সম্রাট।
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি এলাকার আতাপুরের বাসিন্দা সম্রাট দীর্ঘদিন ধরে নগরীতে বাস করছেন। আম্বরখানা এলাকায় তাঁর রয়েছে একটি গ্রুপ। এই গ্রুপের নেতাও সম্রাট। ছাত্রলীগের কোনো পদপদবি না থাকলেও সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে নানা অপরাধ করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ সমকালকে জানান, সম্রাটকে চেনেন না, নাম শোনেননি। তিনি ছাত্রলীগের কেউ নন।
সর্বশেষ বিএনপি নেতা আফম কামালের সঙ্গে বিরোধ ও খুনের পর তাঁকে নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা। সম্রাটের নেতৃত্বে একদল যুবক কামালকে খুন করে বলে বিএনপির একাধিক নেতা অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গত রোববার রাতে আম্বরখানা বড়বাজার এলাকায় কামাল খুন হওয়ার পর রাত ৯টার দিকে সম্রাটকে দেখা গেছে তাঁর নিজ এলাকা বিশ্বনাথের লামাকাজিতে। যাঁরা তাঁকে দেখেছেন, তাঁদের কাছে সম্রাট জানান, কোনো ঝামেলায় পড়ে তিনি সেখানে গেছেন। ওই সময় মোবাইল ফোনে সম্রাট কাউকে বলেন, 'তোর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যা'। ফোনের ওই নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি সমকালের কাছে নিশ্চিত করেন স্থানীয় এক বাসিন্দা।

ওই বাসিন্দা বলেন, 'সিলেটে খুন করে পালাচ্ছে জানলে সম্রাটকে ধরে ফেলতাম।' মঙ্গলবার সম্রাটকে সুনামগঞ্জ থেকে র‌্যাব আটক করেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তবে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেননি র‌্যাব-৯ এর সিনিয়র এএসপি (গণমাধ্যম) আফসান আল আলম। তিনি সমকালকে বলেন, 'আমাদের বিভিন্ন উইং হত্যাকাণ্ড নিয়ে কাজ করছে। আটক করলে বিষয়টি জানানো হবে। এখনও তাকে আটক করা হয়নি।'
আম্বরখানা এলাকার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সম্রাটের নেতৃত্বে আম্বরখানা পয়েন্ট এলাকায় ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ রয়েছে। তারা আম্বরখানা এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাবসহ নানা বিষয়ে উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে আসছে। এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গেও সম্রাট জড়িত ছিলেন।

কয়েক বছর ধরে কিশোর ও তরুণদের নিয়ে নানা অপকর্মের নেতৃত্বে থাকা সম্রাট বিভিন্ন দিবসে আওয়ামী লীগের এক নেতার ছবি ব্যবহার করে পোস্টারিংও করেন। নিজের ফেসবুক আইডিতে মহানগর ছাত্রলীগেরও নাম ব্যবহার করেন। ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের মিছিল-সমাবেশেও তাঁকে দেখা যায়। সম্প্রতি আর্থিক লেনদেন নিয়ে কামালের সঙ্গে বিরোধে জড়ান তিনি। সমঝোতা বৈঠক চলাকালে তাঁদের মধ্যে মারামারিও হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় সম্রাটের করা মামলায় কামালকে ৪নং আসামি করা হয়।

এদিকে কামাল হত্যার ঘটনায় মামলা করতে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এসএমপির এয়ারপোর্ট থানায় যান নিহতের বড় ভাই মইনুল হক। রাত পৌনে ১০টায় সর্বশেষ খবর লেখার সময় তাঁরা থানায় অবস্থান করছিলেন। তথ্য অনুযায়ী, এজাহারে ছাত্রলীগকর্মী আজিজুর রহমান সম্রাটকে প্রধান আসামি করা হচ্ছে। এছাড়াও ৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয় : নামধারী ছাত্রলীগকর্মী সম্রাটকে ঘিরে রহস্য

মন্তব্য করুন