দীর্ঘ ১৯ বছর পর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আলোচিত আব্দুল আলীম খান হত্যা মামলায় এক আইনজীবী ও তার ভাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানা দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি অপর এক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রায়ে মৃত্যুবরণকারী ৫ আসামিসহ ৩৮ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার সকালে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শায়লা শারমিন এই রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার টংগর গ্রামের মৃত মদরিছ আলীর ছেলে ও সুনামগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবী নুরুল ইসলাম ও তার ভাই সবজুল ইসলাম। অপর ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত  আসামি হলেন -একই গ্রামের আব্দুল রহিমের ছেলে মইনুল হক। এদের মধ্যে সবজুল পলাতক রয়েছেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন জানিয়েছেন, আদালত আইনজীবী নুরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তার সহোদর সবজুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। আসামি মইনুলের বিরুদ্ধে ৩০৭ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রতিপক্ষের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন দিরাই উপজেলার টংগর গ্রামের জামিন খানের ছেলে আব্দুল আলীম খান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আজমল খান বাদী হয়ে পরদিন দিরাই থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দিরাই থানার তৎকালীন ওসি সুভাষ চন্দ্র সাহা ৪১ জনকে অভিযুক্ত করে ২০০৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে সিআইডি তদন্ত করে একই আসামিদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে। পরে সুনামগঞ্জ আদালত থেকে মামলাটি সিলেটে স্থানান্তর করা হয়। ২০১২ সালের ১৪ মে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আোলতে মামলার বিচার কার্য শুরু হয়। মামলা চলকালে ৫ আসামি মারা যান। দীর্ঘ শুনানি ও ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার মামলার রায় দেন আদালত।