সরকার হটানোর আন্দোলন, নির্বাচন এবং রাষ্ট্র রূপান্তরে একসঙ্গে কাজ করতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চ। গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে দলটির সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের বৈঠক শেষে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব এ কথা জানান। সরকার পতনের আন্দোলনের দাবিনামা চূড়ান্ত করতে গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে এ সংলাপে বসে বিএনপি।

'গণতন্ত্র মঞ্চ' গঠনের পর বিএনপির সঙ্গে এটিই তাদের প্রথম বৈঠক। এর আগে চলতি বছরের মে-জুন মাসে গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জনসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে আলাদাভাবে সংলাপ করেছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আ স ম আবদুর রব বলেন, আজকের দিনটি একটি ঐতিহাসিক দিন। সারা পৃথিবীর কাছে আজ বার্তা যাবে, রাতের অন্ধকারে যারা ভোট চুরি করে অনৈতিকভাবে, অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছে তাদের সরানোর জন্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে এই স্বৈরাচারের শুধু পতন ঘটবে না, এটি রাষ্ট্র মেরামত করবে, সংস্কার করবে, সংবিধান সংস্কার করবে এবং আন্দোলন ও নির্বাচন দুটিই একসঙ্গে করবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বলেন, এ সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে একটা গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করতে যুগপৎ আন্দোলন করব। এ বিষয়ে বৈঠকে একমত হয়েছি। এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি।

আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে পরে আরও বৈঠক করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারের পতনের বিষয়ে দেশের জনগণের মধ্যে প্রচণ্ড আগ্রহ-উদ্যম সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়কে ত্বরান্বিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে যুগপৎভাবে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য এখন থেকেই আন্দোলনে আছি, আন্দোলনে থাকব।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তাঁরা কেউ যাবেন না। তাঁদের দাবি হচ্ছে- এই সরকারের পদত্যাগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সকাল ১১টা ৪০ মিনিট থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় এ বৈঠক হয়। বৈঠকে গণতন্ত্র মঞ্চের প্রতিনিধি দলে জেএসডির আ স ম আবদুর রব, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, শহীদুল্লাহ কায়সার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, আবুল হাসান রুবেল, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, হাবিবুর রহমান রিজু, গণঅধিকার পরিষদের সদস্য ফারুক হাসান এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ইমরান ইমন, সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ। গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া বিদেশে এবং সদস্য সচিব নুরুল হক নুরের একটি দূতাবাসে সাক্ষাৎকারে থাকায় তাঁরা বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি।