শীতের সকাল ৮টা। তখনও সবাই ঘুমে। বুলডোজারে ভাঙচুরের আওয়াজে ঘুম ভাঙে তাঁদের। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বসতঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া শেষ। এভাবেই গতকাল বৃহস্পতিবার মুক্তাগাছা শহরের ত্রিমোহিনী নতুন বাজার এলাকায় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টু মোল্লার বাড়ি ও দোকানপাট।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। ভাঙচুরের জন্য দায়ী করা হয় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আরব আলীকে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরব আলী। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মুক্তাগাছা উপজেলার খেরুয়াজানী ইউনিয়নের খিলগাতী গ্রামের বাসিন্দা মিন্টু মোল্লা ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। মুক্তাগাছা শহরের ত্রিমোহিনী নতুন বাজার এলাকায় ১৯৯০ সালে রহমত আলী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২১ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। সেই জমিতে ৩২ বছর ধরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঘর নির্মাণ করে বাস করে আসছেন তাঁরা।

এ জায়গার কাছে সম্প্রতি জমি কিনে নির্মাণকাজ শুরু করেছেন মুক্তাগাছা শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আরব আলী। এর পর থেকেই মিন্টু মোল্লার জমিতে তাঁর জমি রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন আরব আলী। কিন্তু সে কথা মানতে নারাজ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মিন্টু। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর করা হয় মিন্টুর বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এ সময় দুটি বসতঘর ও একটি ওষুধের দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়াসহ ঘরের মালপত্র লুট করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
মিন্টু মোল্লা বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ বুলডোজার দিয়ে তাঁর বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙচুরের সময় তাঁর পরিবারের সবাই ঘুমে ছিলেন। ভাঙচুরের আওয়াজে তাঁদের ঘুম ভাঙে। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়াসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি তাঁর।
আরব আলী বলেন, মিন্টুর দখলে তাঁর জমি রয়েছে। অনেক দিন ধরে ওই জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও তাঁর জায়গা ছেড়ে দেননি। এ কারণেই হয়তো জমি দখলে নিতে গিয়েছিল তাঁর লোকজন। নিজেকে ওই জমির প্রকৃত মালিক বলে দাবি করেছেন তিনি।
উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই আকন্দ বলেন, ভাঙচুরের ঘটনা দেখে হতবাক তিনি। তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধি এভাবে কারও বাড়িঘর ভাঙচুর করতে পারেন না। আগামী মাসিক সভায় এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা হবে।