বরিশাল মহানগরসহ সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৫ বিভাগে মর্যাদার সংসদীয় আসন। সদর উপজেলা দক্ষিণ জেলা বিএনপির অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে জেলায় বিএনপির ৩টি সাংগঠনিক কমিটির মধ্যে দক্ষিণ জেলার গুরুত্ব অনেক বেশি। গত বছর ৩ নভেম্বর দক্ষিণ জেলাসহ তিনটি সাংগঠনিক ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হলে দলে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা দেয়। পদবঞ্চিত অনেকেই হতাশায় দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। দক্ষিণ জেলাভুক্ত উপজেলা ও ইউনিয়নে নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাত হয়। গত মঙ্গলবার আকস্মিক দক্ষিণ জেলার পরিস্থিতি বদলে গেছে। এক বছর আগে গঠিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করে নতুন আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এতে নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন পদবঞ্চিত ও নিষ্ক্রিয়রা।

দক্ষিণ জেলার নতুন আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন দায়িত্ব পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো নগরের সদর রোড বিএনপি কার্যালয়ে আসেন। তাদের বিপুল সংবর্ধনা দেন নেতাকর্মীরা। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই ছিলেন গত কমিটির ওপর অভিমান করে দূরে থাকা নেতাকর্মী। গত কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান নান্টু ও সদস্য সচিব আকতার হোসেন মেবুলসহ তাদের ঘনিষ্ঠজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাননি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগে থেকে নগরে অবস্থান করছিলেন নতুন সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন। আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান সকালে আকাশপথে বরিশাল বিমানবন্দরে পৌঁছান। সমর্থকরা দুই শতাধিক মোটরসাইকেল এবং অর্ধশতাধিক মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার নিয়ে শোভাযাত্রা করে আবুল হোসেন খানকে সদর রোড দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। খোলা জিপে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীর শুভেচ্ছার জবাব দেন আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী তাঁরা ফুলেল শুভেচ্ছা নেননি। দলীয় কার্যালয় চত্বরে স্থাপিত মঞ্চে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব শুভেচ্ছা বক্তৃতা দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করেন।

ইউনিয়ন কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধে সদ্য বিলুপ্ত দক্ষিণ জেলা কমিটির আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান নান্টু সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নে হামলার শিকার হয়েছিলেন। এ ইউনিয়নের গত কমিটির সভাপতি মন্টু খান অনুসারীদের নিয়ে নবাগত কমিটিকে সংবর্ধনা জানাতে আসেন। তিনি সমকালকে বলেন, 'নান্টু-মেবুল কমিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে বাণিজ্য করেছেন। যাঁরা রাজপথে ছিলেন না, গত ১০-১২ বছরে যাদের বিরুদ্ধে একটি জিডিও হয়নি, তাঁদের কাছে দলীয় পদ বিক্রি করা হয়েছে। জেলার আগের কমিটি বিলুপ্ত করায় রাজপথের নেতাকর্মীর বিজয় হয়েছে।' বিলুপ্ত ৪৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মাহমুদ বিল্লাহ বলেন, গত কমিটির কিছু কার্যক্রমের কারণে দলের ত্যাগী অনেক নেতাকর্মী দূরে ছিলেন। ওই কমিটি বাতিল হওয়ায় অনেকেই উজ্জীবিত। আবার কেউ কেউ মনোক্ষুণ্ণ হয়ে চুপচাপ আছেন এবং সংবর্ধনায় আসেননি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান নেতাকর্মীর উদ্দেশে বলেন, 'আমরা বিগত দিনের সব ত্রুটি ও ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দল পরিচালনা করব। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে প্রান্তিক নেতাকর্মীর মতামতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।'