কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের 'ভুলে' ভর্তিবঞ্চিত কামরুন্নাহার মিতু ভর্তির সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছেন। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বরাবর আবেদন করেন তিনি। আবেদনের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রারকেও।

আবেদনপত্রে মিতু বলেন, গত ৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত 'বি' ইউনিটের প্রথম মেধাতালিকায় নিজের নাম দেখতে না পেয়ে দ্বিতীয় মেধাতালিকার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। ১৬ নভেম্বর দ্বিতীয় মেধাতালিকা প্রকাশের পর সেটি ডাউনলোড করতে গিয়ে প্রথম মেধাতালিকায় নিজের নাম দেখতে পান তিনি। পরদিন ১৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলে প্রথম মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া প্রার্থীদের ভর্তির সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে বলে তাঁর ভর্তি নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী মিতু বলেন, 'সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে গিয়ে জানতে পারি, প্রকাশিত প্রথম মেধাতালিকায় একটি পৃষ্ঠা ভুলক্রমে বাদ পড়েছিল। কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে বিষয়টি সংশোধন করে আরেকটি মেধাতালিকা প্রকাশ করে। তবে সংশোধিত মেধাতালিকার বিষয়ে কোনো ধরনের নোটিশ না দেওয়ায় সেটি জানতে পারিনি। আমি দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করিনি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মেধাতালিকায় স্থান অর্জন করেও ভর্তি হতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে এবং আমার শিক্ষাজীবন হুমকিতে পড়বে।'
ভর্তিচ্ছুর আবেদনের বিষয়ে জানতে কুবি উপাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, 'আমি একটি আবেদনপত্র পেয়েছি। এ বিষয়টি কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভায় আলোচনার জন্য উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলব।' তবে ডিন বা পরীক্ষা কমিটি সংশ্নিষ্টদের 'ভুলে' মিতুর ভর্তি হতে না পারার দায় কে নেবে? এমন প্রশ্নে মন্তব্য করতে চাননি উপ-উপাচার্য।
আবেদনের সুযোগের বিষয়ে কথা হয় গুচ্ছভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে পারব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে দেখব।'