বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বাদ দিয়ে দলের খুলনা মহানগর কমিটি পুনর্গঠনের পর পেরিয়ে গেছে প্রায় এক বছর। মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মঞ্জু ও তাঁর অনুসারীরা এই কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সোচ্চার থাকলেও হয়নি কোনো অগ্রগতি। এ নিয়ে হতাশায় ভুগছেন তাঁরা। এই সংকট নিরসন না হলে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার কথা ভাবছেন ১৭ বছর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এক যুগ সভাপতি পদে থাকা মঞ্জু।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু সমকালকে বলেন, যাঁদের প্রস্তাবে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তাঁরা সঠিক কাজ করেননি। যাঁদের হাতে বিএনপিকে তুলে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা দীর্ঘদিন দলের পাশে ছিলেন না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ভুল বুঝিয়ে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাঁরা এগুলো করেছেন। কমিটি গঠন নিয়ে খুলনার মানুষ আঘাত পেয়েছে, সব রাজনৈতিক দল হতবাক হয়েছে। তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে দলের মহাসচিবের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন। তাঁরা আশা করেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিষয়টি তদন্ত করবেন; সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। এর জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হলে তাঁরা করবেন। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করবেন না, দলীয় শৃঙ্খলাও ভঙ্গ করবেন না।

সংকট নিরসন না হলে কী করবেন- এ প্রশ্নের উত্তরে মঞ্জু বলেন, 'সংকট নিরসনে অবশ্যই কেন্দ্রীয় বিএনপি পদক্ষেপ নেবে। আমরা সেই আশায় আছি। আমরা মনে করি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।' সমাধান না হলে দলত্যাগ করবেন কিনা- এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, 'দলত্যাগ করার প্রশ্নই আসে না। খুলনায় ৪৪ বছর ধরে যে বিএনপি আমরা গঠন করেছি, সেই বিএনপির বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়াব কী করে? তবে অপেক্ষার পরও যদি বিএনপি সিদ্ধান্ত নিতে না পারে তাহলে সরি; আমরা তো মানুষ, আমাদেরও তো আবেগ আছে। তার পরে আর কী করব, রাজনীতি ছেড়ে দেব।'

২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিকে বাদ দিয়ে তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় কমিটি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ১২ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করায় পরদিন মঞ্জুকে শোকজ এবং ২৫ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই ক্ষোভে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের পদ থেকে পদত্যাগ করেন মঞ্জুর অনুসারী সহস্রাধিক নেতাকর্মী। গত ১ মার্চ মহানগর বিএনপির ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও এতে রাখা হয়নি মঞ্জু ও মনিরুজ্জামান মনিকে। এর পর থেকে দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি মঞ্জু ও তাঁর অনুসারীরা। তবে গত ২২ অক্টোবর বিএনপির গণসমাবেশের আগে মঞ্জু ও তাঁর অনুসারীরা সক্রিয় হন এবং গণসমাবেশে যোগ দেন। এর পর থেকে আবারও তাঁরা নিষ্ফ্ক্রিয়।

এ ব্যাপারে মনিরুজ্জামান মনি সমকালকে বলেন, তাঁরা দল পুনর্গঠনের জন্য মহাসচিবের কাছে চিঠি দিয়েছেন। অপেক্ষায় রয়েছেন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের। কেন্দ্রীয় কমিটি কোনো পদক্ষেপ না নিলে কী করবেন- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগাম কিছু বলা যাবে না, তখনকার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা সমকালকে বলেন, আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর তারা (মঞ্জু গ্রুপ) দলের হাইকমান্ডকে চ্যালেঞ্জ করে সংবাদ সম্মেলন করেছিল। যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা দলের হাইকমান্ড নিয়েছে। তাঁরা দলকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন বলেন, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে খুলনা বিএনপি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মহানগর বিএনপি অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী ও সংগঠিত। তাঁরা যা কিছু করছেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী করছেন।