খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় দেশ-বিদেশে দানাদার খাদ্যশস্য গম ও ভুট্টার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ দুই ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের আদলে সরকার ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর দিনাজপুরে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলে। প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরে নতুন জাত উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকাও রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে কৃষকের বীজের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না। চাহিদামতো প্রজনন বীজ সরবরাহ করতে না পারায় যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে, তা ব্যাহত হচ্ছে। এ জন্য জমিসহ নানা সংকটকে দায়ী করছে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে বছরে গম ও ভুট্টার চাহিদা বাড়ছে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত। গমের চাহিদা বছরে ৭৫ লাখ টন হলেও উৎপাদন হচ্ছে ১২ লাখ টন। ভুট্টার চাহিদা ৭০ লাখ টনের জায়গায় ৫৫ লাখ টন উৎপাদন হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত ৩৭টি গমের জাত উদ্ভাবন করেছে। ভুট্টার জাত উদ্ভাবন করেছে ২৯টি। পোলট্র্রি শিল্পের পাশাপাশি হাঁস, গবাদিপশু, মাছের খাবারসহ নানা কাজে এর ব্যবহার হচ্ছে। মানুষের খাবার হিসেবেও চাহিদা বাড়ছে। উৎপাদন হচ্ছে তেল ও কর্নফ্লেক্স। দেশে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টন গমবীজের চাহিদার বিপরীতে বিএডিসিসহ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টন। বাকি অংশ দেশি-বিদেশি কোম্পানি পূরণ করছে। এ প্রতিষ্ঠান গমবীজ সরবরাহ করে মাত্র ৫০ টন। অথচ প্রয়োজনীয় বীজ উৎপাদনে কৌলিক বা প্রজনন বীজ প্রয়োজন প্রায় ১৫০ টন। গমের প্রজনন বীজ উৎপাদনে ইনস্টিটিউটের জমি আছে ১৯ দশমিক ৫ একর। ১৫-২০ একর জমি লিজ নিতে হয়।

ভুট্টাবীজের চাহিদা ১০ থেকে ১২ হাজার টন। বিএডিসি উৎপাদন করে মাত্র ২০-২৫ টন। অথচ প্রতিষ্ঠানটির বছরে ২০০ টন কৌলিক বীজ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।

দিনাজপুর সদরের রামডুবি এলাকার কৃষক দবিরুল ইসলাম বলেন, গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট তাঁর বাড়ির পাশেই। উন্নত জাতের গম ও ভুট্টার বীজ উদ্ভাবন হলেও সেগুলো পান না। বোলতৈড় এলাকার সেলিম রেজা বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের বীজ বাজারে পাওয়া গেলে অনেকে গম ও ভুট্টা আবাদ করতেন। একই এলাকার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে বীজের ব্যবস্থা করলে আবাদে আগ্রহ বাড়বে।

সংশ্নিষ্টদের ভাষ্য, ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন বন্ধ চিনিকলগুলোর হাজার হাজার একর অব্যবহূত জমির অংশবিশেষে গম ও ভুট্টা উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়। এ জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে দু-তিন বছরেও তা আলোর মুখ দেখেনি। তাঁদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ও সম্ভাব্য জমি চিহ্নিত করে তা ইনস্টিটিউটে অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর, রাজশাহী ও জামালপুর অঞ্চলের প্রায় এক হাজার একর জমি রয়েছে।

ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহফুজ বাজ্জাজ বলেন, কোম্পানির চেয়ে তাঁদের বীজের দাম কম এবং মানও ভালো। তবে প্রধান সমস্যা জমি। প্রজনন ও কৌলিক বীজ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে দিলে তারা অধিক বীজ উৎপাদন করে। কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রজনন বীজ দেওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক গোলাম ফারুক বলেন, উপযোগী জাত উদ্ভাবনে ইনস্টিটিউট কাজ করছে। নতুন হাইব্রিড জাত উৎপাদনে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহযোগিতায় কার্যক্রম চলছে। জমি পাওয়া গেলে চাহিদা অনুযায়ী বীজ সরবরাহ করা যাবে।