ময়মনসিংহের ত্রিশালে গত রোববার রাতে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী দুই দম্পতিসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ট্রাকটির ফিটনেস ও রোড পারমিটের মেয়াদ ছিল না। মাঝারি যানের লাইসেন্স দিয়ে ভারি ট্রাক চালাচ্ছিলেন চালক তোফাজ্জল হোসেন। সড়কে ট্রাকটি দাপিয়ে বেড়ালেও কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি। ওই দুর্ঘটনায় করা মামলায় চালককে গত সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ-ট-১১-০২৪০ নম্বরের ট্রাকটি এখনও নিটোল টাটা মোটরসের নামেই রয়েছে। গাড়িটির পুরো কিস্তি পরিশোধ না করায় মালিকের নামে স্থানান্তর করা হয়নি। মহাখালী থেকে নেওয়া গাড়িটি ময়মনসিংহ নগরীর কালীবাড়ি রোডের ঠিকানা দিয়ে ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। গাড়িটির ট্যাক্স-টোকেনের মেয়াদ ও রোড পারমিটের মেয়াদ শেষ হয় গত ২১ সেপ্টেম্বর। ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হয় ২৯ সেপ্টেম্বর।

পুলিশ বলছে, ট্রাকচালক ভারি যান চালালেও তার লাইসেন্স ছিল মাঝারি যান চালানোর। মাঝারি যানের লাইসেন্স দিয়েই ভারি যান চালাচ্ছিলেন চালক।

দুর্ঘটনায় একমাত্র জীবিত আছেন অটোরিকশার যাত্রী মো. বিপুল মিয়া। তিনি টঙ্গীতে একটি গার্মেন্টে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তিনি বর্তমানে প্রায় সুস্থ।

বিআরটিএর ময়মনসিংহ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক আবদুল খাবীরু বলেন, লাইন্সে না থাকলে গাড়ি চালানোর সুযোগ নেই। ফিটনেস ও রোড পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সয়ংক্রিয়ভাবে অনলাইনে নবায়ন করার কথা।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ময়মনসিংহের সভাপতি আবদুল কাদির চৌধুরী মুন্না বলেন, যাদের তদারকি করার কথা, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় এমন ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।

ত্রিশাল থানার ওসি মাইন উদ্দিন সমকালকে বলেন, মামলায় শুধু চালককে আসামি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত তদন্ত চলবে।