পাঁচ হাজার ইয়াবা নিয়ে এক সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন চট্টগ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারি হানিফ খান। তাৎক্ষণিক তাঁদের নিয়ে রাখা হয় একটি পুলিশ ফাঁড়িতে। এ তথ্য তাঁর ডেরায় ছড়িয়ে পড়লে ফাঁড়িতে হানা দেয় সাঙ্গোপাঙ্গরা, ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাঁদের। এ সময় গুলিতে নিহত হন হানিফের এক বোন। সেই থেকে চার দিন আত্মগোপনে ছিলেন তাঁরা। পলাতক আসামিদের ধরতে অব্যাহত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অবশেষে তাঁকে সদলবলে গ্রেপ্তার করা গেছে। বুধবার তাঁদের আদালতে তুললে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক আজ বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন হানিফরা। মঙ্গলবার রাতে দলবল নিয়ে পালিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি এলাকায় একটি বাসে তল্লাশি চালায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার আন্দুয়া গ্রামের লোকমানের ছেলে হানিফ খান, তাঁর ছোট ভাই মো. ইয়াছিন ওরফে বিজলী রানী, সহযোগী মহিউদ্দিন শরীফ, রেজাউল করিম ও হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা থাকতেন চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার মৌলভীবাজার রেলওয়ের ৯ নম্বর সেতু এলাকায়। বিভিন্ন অভিযোগে হানিফের বিরুদ্ধে ছয়টি ও ইয়াছিনের নামে দুটি মামলা আছে।

গত ১৯ নভেম্বর হানিফ ও মহিউদ্দিন নগরের কালুরঘাট সেতুর মুখ থেকে গ্রেপ্তার হন। তাঁদের রাখা হয়েছিল কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে। সেখানে হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে সরকারি ওয়াকিটকি ও মোবাইল ফোনসহ আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তখন গুলিতে নাজমা আক্তার নামে এক নারী নিহত হন। এ ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ দুই শতাধিক ব্যক্তির নামে দুটি মামলা হয়। এসব মামলায় তিনজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ও হানিফের ভাই-বোনসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (বন্দর) শামীম কবির বলেন, ‘নগরের চান্দগাঁও থানার মোহরা ওয়ার্ডের মৌলভীবাজার রেলওয়ের ৯ নম্বর সেতু এলাকায় অবৈধভাবে কলোনি বানিয়ে রাজত্ব গড়ে তোলেন হানিফ। সেখানে দেদার চালান মাদকের কারবার ও চাঁদাবাজি। নিজের সুরক্ষায় সামনে রাখেন তৃতীয় লিঙ্গের ছোট ভাই ইয়াছিন ওরফে বিজলীকে। হানিফের ডেরায় অভিযান চালাতে গেলেই হামলে পড়তেন তৃতীয় লিঙ্গের লোকজন। এভাবে ২০২০ সালে র‌্যাব এবং গত বছর হামলার শিকার হয় পুলিশ।’