পুলিশ কর্মকর্তা বাবার মোটরসাইকেলে চড়ে বাসায় ফিরছিলো মাদরাসাছাত্র ইব্রাহিম খলিল মাহাদী (১২)। সড়কে খানাখন্দ থাকায় মোটরসাইকেলটি সড়কের ওপর পড়ে যায়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা বাবা-ছেলে দু'জনেই সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। এ সময় পিছনে থাকা দ্রুতগামী একটি ট্রাক বাবার চোখের সামনেই মাহাদীকে চাপা দিয়ে পিষ্ট করলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায়।

মাহাদী বাংলাদেশ পুলিশের উত্তরখান থানার সাব-ইন্সপেক্টর ফজলুর রহমানের ছেলে। ফজলুর রহমান আশুলিয়ার কুটুরিয়া নিক্কন হাউজিংয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। নিহত ইব্রাহিম আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার একটি মাদরাসারছাত্র ছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার মাদরাসা থেকে বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে যাচ্ছিল ইব্রাহিম। নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় পৌঁছালে সড়কে জমে থাকা পানিতে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা বাবা-ছেলে দু'জনেই সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে যান। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি ট্রাক ইব্রাহিমকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বাবার চোখের সামনে ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে ছেলের এ রকম মৃত্যু কোনো ভাবেই মানতে পারছিলেন না পুলিশ কর্মকর্তা বাবা ফজলুর রহমান। এ সময় তার কান্নায় সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক জানান, সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিক্রমে মরদেহটি নিহতের পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকটি জব্দ করা গেলেও এর চালক পালিয়ে গেছেন। তবে ট্রাকটির চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।