ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে আটকে মারধর ছাত্রলীগের 

৪ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে আটকে মারধর ছাত্রলীগের 

ফাইল ছবি

চবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২১:০৩

চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে হলের কক্ষে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের চার নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবদুর রব হলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার হাটহাজারী থানায় চার নেতার নাম উল্লেখ করে মামলা করেন ঠিকাদার।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত হওয়া কমিটির পদধারী নেতা। তারা হলেন– সহসভাপতি এম মেহেদী হাসান, উপকর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক মাশরুর কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শাফায়েত হোসেন এবং সহসম্পাদক মো. হৃদয়। মামলায় এই চার নেতাসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও সাত-আটজনকে আসামি করা রয়েছে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান।

এজাহারে ভুক্তভোগী ঠিকাদার তামজিদ উদ্দিন উল্লেখ করেন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে একটি নামফলক নির্মাণ করার জন্য ডিন অফিস থেকে দায়িত্ব পায় মেসার্স আরএস এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঘটনার ৩ দিন আগে আসামিরা ফোন করে জানায়, নির্মাণকাজ পরিচালনা করতে হলে তাদের ৩ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে কাজ করতে দেবে না বলেও হুমকি দেয়। গত ৩১ জানুয়ারি নামফলকের কাজ চলমান অবস্থায় বিকেল ৪টার দিকে নাম উল্লেখ করা চার আসামিসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জনসহ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে এসে কাজে বাধা দেয়।

এ সময় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের পাশে তাদের এক দফা মারধরের পর অপহরণ করে শহীদ আবদুর রব হলে তৃতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে যান এই চার নেতা। সেখানে গিয়ে তাদের দু’জনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে তাদের জখম করা হয়। পরে তারা হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।

মামলার বাদী বলেন, মারধরের পর সেদিন সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন বন্ধু মধ্যস্থতা করে আমাদের দু’জনকে শহীদ আবদুর রব হল থেকে উদ্ধার করেন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানিয়েছি।

অভিযুক্ত চার ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে দু’জন সাড়া দেন। অভিযুক্ত মেহেদী হাসান এ ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানান।

অন্যদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয় স্বীকার করে সাফায়েত হোসেন বলেন, চাঁদার দাবিতে ঘটনা ঘটেছিল কিনা আমি জানি না। ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পাই বিভাগের ছোট ভাইদের সঙ্গে বহিরাগত দু’জনের ঝামেলা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধান করতে এগিয়ে যাই। সেখানে তাদের মাঝে কিছুটা হাতাহাতি হয়। এতে আমার জুনিয়র একজনের হাতও ভেঙে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূরুল আজিম সিকদার বলেন, আমরা ঠিকাদারকে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগটি পেয়েছি। এ ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×