ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

কিশোর গ্যাংয়ের ১৬ সদস্য গ্রেপ্তার, অস্ত্রসহ উদ্ধার

কিশোর গ্যাংয়ের ১৬ সদস্য গ্রেপ্তার, অস্ত্রসহ উদ্ধার

উদ্ধার করা দেশীয় অস্ত্র। ছবি: সমকাল

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২১:০৬

কুমিল্লা নগরীতে ১৫-২০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। প্রতিটি গ্রুপে ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য রয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ কিশোরকে বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্র, ককটেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত পুলিশের কয়েকটি টিম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে। 

শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান কুমিল্লা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ক্রিকেট খেলা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের ঈগল গ্রুপ ও রতন গ্রুপের সদস্যরা। দেশি অস্ত্র নিয়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নগরীর ছোটরা এলাকার সেন্ট মাইকেল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পাশে রাস্তার ওপর সংঘর্ষে লিপ্ত হয় তারা। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। উভয় গ্রুপের সদস্যরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ ঘটনার পর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত কোতোয়ালি থানা ও ডিবি পুলিশ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

রতন গ্রুপের গ্রেপ্তার পাঁচ সদস্য হলো– শাওন হোসেন, সাইমন আহমেদ, মো. শাওন, বাদল হোসেন ও প্রমিজ সরকার শান্ত। ঈগল গ্রুপের গ্রেপ্তার ১১ সদস্য হলো– মেহেদী হাসান, মো. সাকিব, ফাহিম হোসেন, আরিফ হোসেন, মো. সামবীর, আকিব হোসেন, ফরহাদুজ্জামান পিয়াস, আশরাফুল ইসলাম নিলয়, কাইয়ুম হোসেন, আতিকুর রহমান ও বর্ষণ রায় জয়। তারা কুমিল্লা নগরীর দৌলতপুর, সংরাইশ, মোগলটুলী, মুরাদপুর, সুজানগর, কাঁটাবিল ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা।

গ্রেপ্তার কিশোর গ্যাং সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন রকমের ধারালো ছেনি, ছুরিসহ ১০টি দেশি অস্ত্র ও ৯টি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক কিশোর গ্যাংয়ের ৭০-৮০ সদস্য। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পৃথক টিমের অভিযান চলছে। চারটি মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার কিশোরদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান জানান, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ দমনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পাড়া-মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কিশোর গ্যাং কালচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। নেপথ্যের গডফাদারদেরও ছাড় দেওয়া হবে না, তথ্য-প্রমাণে ভিত্তিতে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামান, নাজমুল হাসান, ওসি কোতয়ালি ফিরোজ হোসেন, জেলা ডিবির ওসি রাজেস বড়ুয়া, কান্দিরপাড় ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক দীনেশ চন্দ্র দাশগুপ্ত প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×