ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সুখসাগর পেঁয়াজ আবাদে আশা

সুখসাগর পেঁয়াজ আবাদে আশা

আর মাস দেড়েক পরই এসব পেঁয়াজ উত্তোলন হবে। বিঘাপ্রতি ফলন হবে দেড় থেকে ২শ মণ সমকাল

মেহেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২৩:১১

মেহেরপুরের চাষিরা প্রায় দেড় যুগ ধরে সুখসাগর পেঁয়াজের আবাদ করে আসছেন। জেলায় উচ্চ ফলনশীল জাতের এই পেঁয়াজের আবাদ দিন দিন বাড়ছে। ফলন ভালো হলেও ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে লোকসান গুনতে হতো চাষিদের। এবার আমদানি বন্ধ থাকায় চলতি রবি মৌসুমে পেঁয়াজের ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা। এতে সুখসাগর পেঁয়াজ নিয়ে সুখের আশায় বুক বাঁধছেন মেহেরপুরের চাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মেহেরপুরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ৩ হাজার ৫৩৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষে কৃষকের খরচ হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে সুখসাগর পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ১৫০ থেকে ২০০ মণ পর্যন্ত। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা মণ। তবে ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে যায়। তাই ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও বিঘাপ্রতি দেড় থেকে দুই লাখ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি সম্ভব। এতে খরচ বাদে কৃষকের প্রায় লাখ টাকা লাভ হবে।
কয়েকজন পেঁয়াজচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছর তিনেক আগেও পেঁয়াজ চাষ করে কৃষকের লোকসান গুনতে হতো। গত বছর ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মণ। অব্যাহত লোকসান হওয়ায় চাষিরা পেঁয়াজের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে কলা চাষ করে আসছেন। এতে এক ফসলে লোকসান হলেও অন্য ফসলে পুষিয়ে নেওয়া যায়।
মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের পেঁয়াজচাষি বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিরউদ্দিন বলেন, বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা। এবার সেচ, সার, কীটনাশক, বীজ ও শ্রমিকের খরচ বাড়লেও পেঁয়াজ বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন কৃষক। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে দেশে 
পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখতে সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।
আনন্দবাস গ্রামের পেঁয়াজচাষি মানজারুল ইসলাম জানান, দেড় মাস পরেই সুখসাগর পেঁয়াজ উঠবে। বর্তমান সময়ের মতো দাম পেলে পেঁয়াজচাষিদের ভালো লাভ হবে। তাঁর ভাষ্য, জেলায় হিমাগার নির্মাণ করা হলে কৃষকরা ক্ষেত থেকে পরিপক্ব পেঁয়াজ তুলে সেখানে রাখতে পারতেন। এতে দেশে পেঁয়াজের সংকট তৈরি হতো না এবং কৃষকদেরও দ্বিগুণ লাভ হতো।  
মেহেরপুর কাঁচাবাজারের আড়তদার মিজানুর রহমান বলেন, নভেম্বর মাসের শেষ দিক থেকে কৃষকরা গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ নিয়ে আড়তে আসছেন। কাঁচা পেঁয়াজ এখন ৭০-৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মার্চে জেলায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হওয়া সুখসাগর পেঁয়াজ বাজারে আসবে। এ রকম দাম পেলে এবার কৃষকরা খুবই লাভবান হবেন। তবে কৃষকের জন্য আশঙ্কার কথাও শোনালেন মিজানুর। তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে, শিগগিরই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে এলে তখন দাম অনেক কমে যাবে।
মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ সরকারের নেওয়া একটি অনন্য উদ্যোগ। এ বছর মেহেরপুরে ১ হাজার ৭০০ বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ হচ্ছে। এ জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৭০০ চাষিকে পেঁয়াজের বীজ, সার ও নগদ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা এরই মধ্যে পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করছেন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মেহেরপুরের উপপরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, জেলায় দিন দিন গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ বাড়ছে।  পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে বিক্রি করতে পারলে 
কৃষকরা আরও লাভবান হবেন। এ জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জেলায় একটি হিমাগার স্থাপনের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

×