ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শেবাচিমের শিশু ওয়ার্ডে শয্যার চার গুণ রোগী

শেবাচিমের শিশু ওয়ার্ডে শয্যার চার গুণ রোগী

দক্ষিণাঞ্চলে ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। শনিবারের ছবি সমকাল

 বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২৩:২৭

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গতকাল শনিবার ২৬৯ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছিল। এ ওয়ার্ডের শয্যা সংখ্যা ৬৩। অর্থাৎ শয্যার তুলনায় সেখানে রোগী চার গুণ বেশি। ওয়ার্ডটির মেঝে ও হাঁটাচলার পথেও দেখা গেছে শিশু রোগী ও তাদের স্বজনকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবার পুরো শীত মৌসুমজুড়েই শিশু ওয়ার্ডের এ অবস্থা দেখা যাচ্ছে। ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। ফলে রোগীর চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। এসব 
শিশুর ৫০ শতাংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর শীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
সরেজমিন শেবাচিম হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি শয্যায় দুটি শিশু রাখা হয়েছে। মেঝেতেও রোগী থাকায় ওয়ার্ডগুলোতে হাঁটাচলা করা কঠিন। একাধিক শিশুর অভিভাবকের অভিযোগ, তারা মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। নেবুলাইজেশন মেশিন, মাস্ক কম থাকায় রোগীর স্বজনকে কাড়াকাড়ি করতে হয়।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, রোগীর চাপ বেশি থাকায় কিছুটা সংকটে পড়তে হচ্ছে। শনিবার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ছিল ২৬৯ জন। এর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিল ৫০ থেকে ৭০ জন। এক মাসে গড়ে প্রতিদিন ৫০ জনের বেশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয় শনিবার জানিয়েছে, এক মাসে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার (শেবাচিম হাসপাতাল ছাড়া) হাসপাতালগুলোয় ১ হাজার ৪১৪ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল জেলা-উপজেলা হাসপাতালে রয়েছে ৪২৯টি। সবচেয়ে বেশি ভোলায় ৭০২ জন। অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানবিদ এএসএম আহসান কবির এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বরিশাল নগরীর সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু রোগ চিকিৎসক ডা. জাবির হাসান বলেন, সম্প্রতি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের বেশির ভাগ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এটি অবশ্যই চিন্তার বিষয়। এ ক্ষেত্রে পরিবারকে সচেতন হতে হবে। শিশুদের গরমে রাখতে হবে। হাত ধৌত করতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ফলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হবে। তিনি শিশুদের নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন দেওয়ার ওপরও জোরারোপ করেন।

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, শেবাচিম হাসপাতাল দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখানে রোগীর সংখ্যা বেশি। তাই এখানকার রোগীর সংখ্যা দেখে এটা ভাবা ঠিক নয়, নিউমোনিয়া ছড়িয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগী তেমন নেই।

আরও পড়ুন

×