রাজশাহী বিভাগজুড়ে চলমান পরিবহন ধর্মঘটে বগুড়ায়ও দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে দিনমজুর ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন।

কৃষিশ্রমিক জাহিদ হাসানের বাড়ির গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায়। ধান কাঁটার কাজে তিনি এসেছিলেন বগুড়ার কাহালুর বিবিরপুকুর এলাকায়। জাহিদ বলেন, ‘আমরা ১৫ জন ধানকাটার জন্য সাঘাটা হয়ে বগুড়ায় এসেছি। প্রায় দুই সপ্তাহ কাজ শেষে আজ বাড়িতে ফিরব। তবে বাস না থাকায় বগুড়া বাস টার্মিনাল এলাকায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি। এখন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যেতে হবে। বাসে বাড়িতে যেতে ভাড়া লাগতো ৬০ টাকা, এখন লাগবে ১৭০ টাকা করে। আমাদের মতো দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের জন্য এটা দুই বেলা না খেয়ে থাকার সমান।’ 

মুরাদ হোসেন নাটোরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। প্রতিদিন তিনি বগুড়া থেকে নাটোর যাওয়া আসা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো গাড়ি পাচ্ছি না।’

ইসমাইল হোসেন নৌ-পরিবহনে চাকরি করেন। বগুড়া থেকে তার গন্তব্য মানিকগঞ্জের আরিচায়। বাস না পেয়ে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ২০০ টাকা চুক্তিতে ট্রাকে চড়েছেন তিনি। ইসমাইল বলেন, ‘বাসে গেলে ভাড়া লাগতো ১২০ টাকা। এখন ২০০ টাকা লাগছে। টাকা বড় কথা না। টাকার চাইতে এখন ভোগান্তিই বড়। এই ভোগান্তি দেখার কেউ নেই।’

জানা যায়, বগুড়া থেকে প্রতিদিন ৩৬টি জেলায় প্রায় এক হাজার ২০০ বাস চলাচল করে। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে প্রত্যেক রুটের সব বাস বন্ধ আছে।

বগুড়া-ঢাকা রুটের বাসে চালকের সহকারীর কাজ করেন সেলিম মিয়া। তিনি বলেন, ‘বাস মালিকেরা বলেছেন বাস বন্ধ। বিএনপির সমাবেশের জন্য বাস বন্ধ থাকবে বলা হয়েছে।’

রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহন মালিক শ্রমিক যৌথ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দশ দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিকেরা স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে বগুড়া জেলার মধ্যে সব পরিবহন চলাচল বন্ধ আছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।’