১৮ কোটি টাকা বকেয়ার অভিযোগে সংযোগ বিচ্ছিন্নের ৪৬ ঘন্টা পর পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে দিনাজপুর পৌরসভা। বকেয়া টাকার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা টোকেন মানি হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগকে দেওয়ায় এই সংযোগ পেয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (নেসকো)-২’র একটি গাড়ি পৌরসভায় গিয়ে বিদ্যুতের লাইন পুনরায় সচল করে দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম শাহাদত হোসেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ২ টার দিকে পৌরসভা ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যদিও সংযোগ বিচ্ছিন্নের আগে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দিনাজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মিনারুল ইসলাম খান।

জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর ধরে দিনাজপুর পৌরসভা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছিল না। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি যে, বিদ্যুৎ বিভাগ পৌরসভার স্থাপনা ব্যবহার করায় তাদের কাছে ভাড়া বাবদ ৭০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এই টাকার সাথে সমন্বয়ের কথা জানিয়ে ২০১২ সালে চিঠি দেয় পৌরসভার মেয়র। এরপরে পৌরসভা কোন বিদ্যুৎ বিল দেয়নি।  এরই মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে পৌরসভা ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এদিকে, বিদ্যুৎ না থাকায় প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় জন্মনিবন্ধনসহ নাগরিক সুবিধা গ্রহণ না করতে পেরে বিপাকে পড়েন স্থানীয় জনগণ। পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বিপাকে পড়েন। এনিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তারা। দীর্ঘ সময় পৌরসভার ষ্টোরে থাকা ৮ হাজার ১৩০ ডোজ করোনার ভ্যাকসিন এবং (সিনোফার্মের ৩ হাজার ৬০০, অ্যাষ্ট্রাজেনেকার ৪৬০, ফাইজারের এক হাজার ৭০ ও ক্যোমিরনেটি ৩ হাজার ডোজ) ৩ হাজার ২৩০পিস ইপিআই ভ্যাকসিন নষ্টের আশঙ্কা দেখা দেয়। পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করতে বুধবার সকাল থেকেই বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে যোগাযোগ শুরু করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ বকেয়া টাকার মধ্যে কিছু টাকা টোকেন মানি হিসেবে পরিশোধের কথা জানালে বৃহস্পতিবার ৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে টোকেন মানি বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রদান করে দিনাজপুর পৌরসভা। পরে নিয়মিতভাবে পৌরসভা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবে বলেও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। এরপরই বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় সচল করা হয়।

দিনাজপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (নেসকো)-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম শাহাদত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দিনাজপুর পৌরসভা বিদ্যুতের বকেয়া বিল পরিশোধ করছিল না। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও জানেন। তাদের নির্দেশে মঙ্গলবার পৌরসভা ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে আলোচনায় বসেন এবং বকেয়া বিলের মধ্যে কিছু অর্থ টোকেন মানি হিসেবে দেওয়ার কথা জানান। পরে বৃহস্পতিবার তারা বকেয়ার মধ্যে ৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকার চেকের মাধ্যমে একটি টোকেন মানি দেন। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন এবং যেসব বকেয়া বিল রয়েছে তা ধাপে ধাপে পরিশোধ করবেন। তাই পৌরসভার বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় সচল করে দেয়া হয়েছে।

এব্যাপারে পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কাছ থেকে আমরা ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা পাবো স্থাপনা ভাড়া বাবদ। তাদের অফিসসহ যাবতীয় কিছু আমাদের পৌরসভার জায়গার উপরে। এ ব্যাপারে আমরা তাদেরকে চিঠিও দিয়েছি। এখন হঠাৎ করেই তারা পৌরসভা ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। আমরা একটা টোকেন মানি তাদেরকে দিয়েছি এবং তারা পুনরায় সংযোগ স্থাপন করেছে। তবে আগামী রোববার অথবা সোমবারে আমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিবো।