নওগাঁর আত্রাইয়ে নিখোঁজের ২২ দিনের মাথায় নদী থেকে এক শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে চিঠি ও মোবাইল ফোনে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় শিশুর বাবার কাছে। 

পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বুলবুল সোনারকে (৩০) শনাক্ত করে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

গ্রেপ্তার বুলবুল উপজেলার শ্রীধরগুড়নই গ্রামের আব্দুল জলিল সোনারের ছেলে এবং শিশু ইব্রাহিম একই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ১০ নভেম্বর দুপুরে শিশু ইব্রাহিম (৬) নিখোঁজ হয়। এরপর অনেক খোঁজাখুজি করে সন্ধান না পেয়ে পরের দিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। এর পর থেকে শিশুর সন্ধানে মাঠে নামে পুলিশ। এরই মধ্যে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি নতুন সিম ও মোবাইল কিনে বাড়ীর পাশের বাবুর চা-স্টলের চুলার মধ্যে রেখে আসতে শিশুর বাবার শয়ন ঘরে একটি চিঠি দেয় ঘাতক। এছাড়া দাবিকরা টাকা রেডি রাখতে বলা হয়। এরপর গত ২৬ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে মোবাইল ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে বুলবুলকে শনাক্ত করে ২৭ নভেম্বর আটক করে। ওই দিনই শিশুর বাবা ইব্রাহিম বাদী হয়ে নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বুলবুলকে ১০দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। 

পরে রিমান্ডে বুলবুলের দেওয়া তথ্য মতে বৃহস্পতিবার ভোরে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) গাজিউর রহমান পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইবনে রহমান ও আত্রাই থানার ওসি তারেকুর রহমান সরকারসহ একটি টিম অভিযান চালিয়ে শ্রীধরগুড়নই নদীতে পুঁতে রাখা গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। 

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার বুলবুল স্থানীয় একটি মাদ্রাসার খণ্ডকালীন শিক্ষক এবং পাশাপাশি গ্রামে মুদি ও চা-দোকান দিয়ে ব্যবসা করে আসছিল। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বুলবুল পুলিশকে জানায়, ঘটনার দিন শিশু ইব্রাহিম দোকানের ৬টি বেলুন ফাটায়। তাকে চলে যেতে বললেও চলে না যাওয়ায় গলা টিপে হত্যা করে চা-স্টলের পাশে ছাইয়ের মধ্যে মরদেহ পুঁতে রাখে। এর পর সেখান থেকে গন্ধ বের হতে থাকলে গত ১৭ বা ১৮ নভেম্বরের দিকে অর্ধগলিত মরদেহ বালতিতে তুলে নদীর মধ্যে পুঁতে রাখে এবং মরদেহ যেন ভেসে না ওঠে সে জন্য বড় কংক্রিট ও স্ল্যাব দিয়ে চাঁপা দিয়ে রাখে। 

এ ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানানো হয়।

আত্রাই থানার ওসি তারেকুর রহমান সরকার বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।