রাজশাহী-৩ আসনের (পবা-মোহনপুর) এমপি আয়েন উদ্দিনসহ আটজনের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজশাহীর মোহনপুর আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার আলী হায়দার নামে এক ব্যক্তি। তিনি গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারুজ্জামানের কর্মী ছিলেন। আলী হায়দারসহ আখতারুজ্জামানের পাঁচ কর্মীকে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

আসামিরা হলেন- রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আয়েন উদ্দিন এমপি, তার সহযোগী দেলোয়ার হোসেন, বুলবুল, মাহবুব, শফিকুল, টুটুল, রাজু ও সাইফুল।

এজাহারে বলা হয়, রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারুজ্জামানের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু রায়হান। গত ৫ অক্টোবর তিনি সংবাদ পান, ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পাশে ফেস্টুন ও পোস্টার টাঙাতে গেলে আসামিরা প্রচারকর্মীদের ওপর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এর এক পর্যায়ে প্রচারকর্মী অসিম কুমার দাস, মেহেরুন্নেছা, সুইটসহ আরও ৪-৫ জনকে কিলঘুষি ও শ্লীলতাহানি করে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে আসামিরা আটক করে রাখে। এমন সংবাদে, সাক্ষী আবু রায়হানসহ অন্যান্য সাক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে মামলার বাদী ঘটনাস্থলে যান। সেখানে আয়েন উদ্দীনের নির্দেশে আসামিরা বাদীসহ সবার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কিলঘুষি, লাথি মারতে থাকে। এ সময় তাদের মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়।

মামলার আইনজীবী আবু রায়হান জানান, মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে আয়েন উদ্দীনের মোবাইল ফোনে কল দিলে তার ব্যক্তিগত সহকারী ইকবাল হোসেন ফোন রিসিভ করে বলেন, 'এমপি সাহেব ব্যস্ত আছেন।' তবে এমপি আয়েন উদ্দীন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, 'ওইদিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।' তিনি উল্টো অভিযোগ করেন, 'তারাই আমাদের লোকজনকে মারধর করেছে।'