ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শরীফাবাদ স্কুলের অভিযুক্ত সেই প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ওই ঘটনা তদন্তে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফাবাদ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে যান। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায় কমিটি। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেনকে আটক করে পুলিশ। এতে বিভিন্ন মহল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরার ডিভি, গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য-আলামত পুলিশের কাছে রয়েছে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়ারুল ইসলাম সমকালকে বলেন,  জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহল। এ ঘটনায়  দুপুরের পর ওই বিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থীরা স্কুলের সামনে অবস্থায় নেয় ও সড়কপথ অবরোধ করে। তারা প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ নভেম্বর সকালে শরীফাবাদ স্কুলে পরিক্ষা দিচ্ছিল ওই ছাত্রী। পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগ তার খাতাপত্র নিয়ে যান স্বরবানী সাহা নামের একজন শিক্ষিকা। এ সময় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ওই শিক্ষার্থীর খাতাপত্র আটকে রাখা হয়। মেয়েটি কান্নাকাটি করলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে তার অনুমতি আনার কথা বলেন ওই শিক্ষিকা। পরে মেয়েটি প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেনের কাছে গিয়ে তার পরীক্ষার খাতাপত্র চাইলে সাখাওয়াত তার রুমে যেতে বলেন মেয়েটিকে। পরে রুমের মধ্যে প্রবেশ করতেই প্রধান শিক্ষক মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে ও তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থান স্পর্শ করে। একপর্যায়ে মেয়েটি চিৎকার দিলে তার মুখ চেপে ধরেন প্রধান শিক্ষক এবং ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য মেয়েটিকে হুমকি দেন। পরে মেয়েটি পরীক্ষা না দিয়ে বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে ঘটনা জানায়।

মেয়েটির বাবা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কাজ করি, ভাত খাই। খুব কষ্ট করে মেয়েটির পড়ালেখা চালাই। তিনি জানান, তার তিন মেয়ের মধ্যে ভুক্তভোগী মেয়েটিই বড়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মহল তার পরিবারকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছে। কিন্তু তিনি কোনো মীমাংসায় যাননি,  একটি সুষ্ঠু বিচারের আশায় প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ইতোপূর্বে ওই স্কুলে বিভিন্ন অনিয়ম করাসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। লোকলজ্জার ভয়ে এ বিষয়ে অনেকেই মুখ খোলেন না।  এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াতকে অনতিবিলম্বে স্কুল থেকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

আটক হওয়ার আগে প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকের কথা হলে, তিনি তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) হেলাল উদ্দিন ভুঁইয়া সমকালকে জানান, বুধবার রাতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনাটির তদন্তের জন্য ভাঙ্গা থানার ওসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।