গ্রাম্য মাতবরদের অপবাদ সইতে না পেরে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের দুর্গম চরশাহজালাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গৃহবধূর নাম পপি বেগম (৩৫)। তাঁর স্বামী লোকমান হোসেন খালে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের তিন সন্তান। ছেলে শাওন (৯), মেয়ে মীম (৭) ও ছোট ছেলে সায়েম (৫)।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পপি বেগমের সঙ্গে তার এক দেবরের অনৈতিক সম্পর্ক আছে- এমন অভিযোগ তুলে বুধবার সন্ধ্যায় চরশাহজালাল এলাকায় সালিশ বৈঠক বসান মাতবররা। এই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সহিদুল ইসলাম, স্থানীয় চৌকিদার মো. হাসান, গ্রাম্য মোড়ল খালেক ঘরামীসহ অন্যরা।

সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে পপির পরিবারের কেউ আসেননি। তখন গ্রাম্য মাতবররা লোক পাঠিয়ে পপি ও তার পরিবারের লোকজনকে বৈঠকে আসার নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন গিয়ে পপির ননদ জেসমিন বেগম ও তার স্বামী কামাল হাওলাদারকে ধরে আনেন। সেখানে দু'জনকে মারধর করে ২ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করেন মাতবরবরা। এমনকি তাদের উস্কানিতে পপি ও তাঁর দেবরের বিরুদ্ধে মিছিল করা হয়।

পপির স্বামীর ভাষ্য, অপবাদ দিয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করায় এবং ননদ ও তার স্বামীকে মারধর ও জরিমানা করায় ক্ষোভে-লজ্জায় পপি আত্মহত্যা করেছেন। রাতে গাছের সঙ্গে রশি বেঁধে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
পপির শ্বশুর বারেক মৃধা এ ঘটনায় গ্রাম্য মাতবরদের বিচার দাবি করেছেন।

চরবোরহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজির সরদার বলেন, সালিশ বৈঠকের কথা তিনি শুনেছেন, তবে ইউপি সদস্য ও চৌকিদার সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিনা, তা তিনি জানেন না।

ইউপি সদস্য সহিদুল ইসলামের দাবি, পপি তাঁর দেবরের সঙ্গে কয়েক দিন আগে পালিয়ে গেলে তার স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। হয়তো সে কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবার।