আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চলছে টাঙ্গাইলের ১৪৮টি অবৈধ ইটভাটা। এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ। এর আগে টাঙ্গাইল, বগুড়া, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও জেলার অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম সাত দিনের মধ্যে বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে সংশ্নিষ্ট চার জেলা প্রশাসককে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তবে প্রক্রিয়াগতভাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় লিখিত নির্দেশনা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, ১২টি উপজেলার ২৮২টি ইটভাটার মধ্যে ১৩৪টি বৈধ এবং ১৪৮টি অবৈধভাবে চলছে। এর মধ্যে মির্জাপুরে ২৯টি, ধনবাড়ীতে ১৭টি, মধুপুরে ১৮টি, ঘাটাইলে ৪৪টি, কালিহাতীতে ১১টি, সখীপুরে ৪টি, গোপালপুরে ৩টি, দেলদুয়ারে একটি, ভূঞাপুরে ৫টি, নাগরপুরে ৮টি, সদর উপজেলায় ২টি ও বাসাইলে ৬টি ইটভাটা অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জেলার ১২৩টি ইটভাটা হাইকোর্টে রিট করে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি নিয়ে চালানো হচ্ছে। আদালতের শর্তগুলো কাগজেই বন্দি, মানছে না কেউ।

টাঙ্গাইলের ১৪৮টি লাইসেন্স ও ছাড়পত্রবিহীন ভাটায় বিধিনিষেধ না মেনে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ পোড়ানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রায় সব ইটভাটাই স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, মসজিদ-মন্দির ও ফসলি জমি ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে- পরিবেশ অধিদপ্তরও তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

টাঙ্গাইল জেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান জানান, ইটভাটায় তাঁরা বনের কাঠ পোড়ান না। ভাটায় প্রথম চুলা জ্বালাতে কয়েক হাজার মণ কাঠ দিয়ে আগুন লাগাতে হয়। অন্য সময় কয়লা দিয়েই ইট পোড়ানো হয়।

পরিবেশবাদী গবেষক সোমনাথ লাহিড়ী বলেন, বনাঞ্চলের তিন কিলোমিটার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। জেলার ইটভাটগুলো স্থাপনে সে নিয়ম মানা হয়নি।

সিভিল সার্জন মিনহাজ উদ্দিন মিয়ার ভাষ্য, নিয়ম না মেনে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনার জন্য আশপাশের বাসিন্দা ও শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় চোখ, ত্বক ও ফুসফুসের কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁরা।

টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুজ্জামানের দাবি, প্রাথমিকভাবে ইটভাটায় আগুন লাগানোর জন্য কাঠ পোড়ানো হয়। এগুলো দেখার দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের। এছাড়া বন বিভাগে লোকবল কম থাকায় সব সময় সব জায়গায় পাহারা দেওয়া বনরক্ষীদের জন্য কষ্টকর। সে সুযোগে কাঠচোরেরা অনেক সময় তৎপর হয়ে ওঠে।

ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ, কয়লার ব্যবহার করতে হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনার লিখিত আদেশ এখনও পাননি তাঁরা। তবে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত মৌসুমে ৬৭টি ইটভাটায় এক কোটি ৭১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত বুধবার মির্জাপুরের ৯টি ইটভাটাকে এক কোটি ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।