মারা যাওয়ার পরও কমিটিতেই থাকছেন মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ালীগের নেতা কর্মীরা। ১৮ বছর ধরে ক্রমান্বয়ে এমন ১৬জন মৃত ব্যক্তির সদস্য পদ বহাল রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ তিন বছর থাকলেও সেখানে মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ১৮ বছরের বেশি সময় অতিবাহিত করছে । এতে দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি ঝিমিয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। ফলে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

তৃণমূল নেতা কর্মীরা জানান, কেন্দ্র থেকে সম্মেলন করার জন্য কয়েক দফা তাগিদ দিলেও নানা অজুহাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতারা সম্মেলন করতে আগ্রহী হননি।  ফলে দলের ভেতরে এখন বেড়েছে অভ্যন্তরীণ বিরোধ। অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা,কেউ আবার দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর মতলব উত্তর উপজেলায় ২০০৫ সালের এপ্রিলে আওয়ামলীগের সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে এ্যাড. রুহুল আমিনকে সভাপতি ও এম.এ কুদ্দুসকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ জনের কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমান ওই কমিটির ১৬ জন মারা গেছেন, ৫ জন দীর্ঘদিন দেশের বাহিরে অবস্থান করেছে এবং ১৩ জন বয়সজনিত কারণে দলের কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। ফলে উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটি হ-য-ব-র-ল অবস্থা দেখা দিছে। এছাড়াও দীর্ঘদিন উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন না হওয়ায় উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন ১ টি পৌরসভার কমিটিতেই এর প্রভাব পড়েছে এবং ইউনিয়ন ও পৌর কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও উপজেলা কমিটির কারণে নতুন কমিটি করা সম্ভব হয়নি।

নিয়মিত কমিটি না হওয়ার পেছনে জুনিয়ররা দায়ী করছেন সিনিয়র নেতা কর্মীদের। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতা কর্মীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, এই ১৮ বছরে তিন তিনজন সাংসদ ছিলেন। প্রত্যেকেই নিজের স্বার্থে কমিটির নেতা কর্মীদের ব্যবহার করেছেন, সংগঠনের দিকে নজর দেননি।

উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, যারা কমিটিতে আছেন নতুন কমিটি গঠনে তাদের আগ্রহ নেই। স্থানীয় সাংসদরাও কেউ কমিটি গঠনে উদ্যোগ নেননি। কমিটির নেতারা থাকার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিকে প্রভাবিত করে কমিটি গঠন বিলম্বিত করছেন। দলের ভেতরে নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনজুর আহমদ সমকালকে বলেন, সম্মেলন না হওয়ার কারণে সংগঠনের আজকের অবস্থা। যারা কমিটিতে আছেন তারা মনে করছেন সম্মেলন না হওয়াই ভালো। উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগঠন শুধু কাগজে কলমে আছে, কোন কার্যক্রম নেই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এম.এ কুদ্দুস সমকালকে বলেন, নানা প্রতিকূলতায় সম্মেলন করার পরিবেশ ছিল না। করোনায় দুই বছর পার হয়েছে। এসব নানা কারণে কমিটি হয়নি। তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি অ্যাড. রুহুল আমিন এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল সমকালকে জানান, সংগঠনকে নিজের আজ্ঞাবহ করার জন্য কেউ কেউ কমিটি করতে চাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ, ছাত্র লীগ, যুবলীগের একই অবস্থা। এবার ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়া হয়েছে। সেটিরও বিরোধীতা করছেন অনেকেই। ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণেই মতলবে আওয়ামী লীগের সংগঠনের এ অবস্থা।