দিনাজপুরে ইজিবাইক চালককে হত্যার প্রতিবাদ ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ধর্মঘট, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়েছে। ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক-চালক সোসাইটির উদ্যোগে রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন সোসাইটির সভাপতি আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তালেব, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক রওশন তালুকদার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বউবাজারের ভিড়ে ইজিবাইক চালক খালেকুলের সঙ্গে এক নারীর ধাক্কা লাগে। এতে ওই নারীর কোনো ক্ষতি না হলেও মেঘা বস্ত্রালয়ের মালিক সন্তোষ কুমার ডালমিয়া তাঁকে বেদম মারধর করেন। এতে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁরা অবিলম্বে সন্তোষ কুমার ডালমিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

বক্তারা আরও বলেন, শহরে রাস্তা দখল করে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন। এতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু দোষ পড়ছে তাঁদের ওপর। পৌর মেয়র ব্যবস্থা নেন না। রাস্তাগুলো দখলমুক্ত করলেই যানজট হবে না।

এদিকে ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক-চালকদের ডাকা ধর্মঘটের ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ইজিবাইকশূন্য হয়ে পড়েছে শহর। শহরে প্রবেশের মুখেই ইজিবাইক আটকে দেওয়া হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে প্যাডেলচালিত রিকশা ও ভ্যানে যাতায়াত করছেন।

নিমতলা এলাকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, হেঁটে হেঁটেই তিন কিলোমিটার এসেছি। হঠাৎ করেই ইজিবাইক চালকদের ধর্মঘট। ধর্মঘটের কারণে গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হয়ে যাবে।

শুক্রবার দুপুরে ইজিবাইক চালক খালেকুল ইসলামকে মেঘা বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী সন্তোষ কুমার ডালমিয়া মারধর করেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইজিবাইক চালক খালেকুল বিরল উপজেলার মঙ্গলপুরের মৃত সাবের আলীর ছেলে। তিনি শহরের মেদ্যাপাড়ায় থাকতেন।

জেলা ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক-চালক সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন জানান, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তা না হলে পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।