কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কলেজছাত্র মাঈনুল ইসলাম পাভেল হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার রাতভর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, পাভেলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এক মাস আগেই।

গ্রেপ্তারদের বরাত দিয়ে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান।

গ্রেপ্তার চারজন হলো- ফেনী সদর থানার গজারিয়াকান্দি (শর্শদি) গ্রামের আবু হুরাইরা অনিক, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কুলাসার গ্রামের সালমান হোসেন, নাঈমুল হক রাকিব, ধোপাখিলা গ্রামের নাজিমুল হক জয়। নিহত পাভেল ফেনীর মহিপাল কলেজের একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল।

পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে- নাঈমুল হক রাকিবের সঙ্গে এক মাস আগে নিহত পাভেলের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরপর রাকিব তার বাড়ি আলকরা এলাকায় এসে স্থানীয় বন্ধুদের জানায়। তখন থেকেই রাকিব ও তার সহযোগী আসামিরা পাভেলকে মারধরের জন্য পরিকল্পনা ও সুযোগ খুঁজতে থাকে। কয়েকদিন আগে পাভেলের নানার বাড়ি গিয়ে তাকে খুঁজে আসে আসামিরা।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের ধোপাখিলা গ্রামে নানার বাড়ির পাশে মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলতে যায় পাভেল। সেখানে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে পাভেলকে ছুরিকাঘাতে খুন করে আসামিরা।

এ ঘটনায় পরদিন নিহতের মা লিপি ইসলাম বাদী হয়ে ৯ জনের নামে থানায় মামলা করেন। মামলায় আরও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসফাকুজ্জামান, সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, ডিবির ওসি রাজেশ বড়ূয়া প্রমুখ।