মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রমের সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে একটি বুনো হাতি গুরুতর আহত হয়েছে। এর পর থেকে হাতিটি ঠিকমতো হাঁটতে পারছে না। তার চিকিৎসা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের কর্মীরা। শনিবার বিকেল থেকে নানা চেষ্টা করেও চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

হাতিটি রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের লম্বাশিয়া পাহাড়ের গহিন অরণ্যে অবস্থান করছে। তাকে ঘিরে আছে আরও পাঁচ-ছয়টি হাতি। মানুষ দেখলেই তেড়ে আসছে হাতির দল।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আনোয়ার হোসেন সরকার সমকালকে জানান, মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশের সময় শূন্যরেখার কাছে স্থলমাইন বিস্ফোরণে হাতিটির সামনের ডান পায়ের গোড়ালি উড়ে গেছে। শনিবার সন্ধ্যার আগে ভেটেরিনারি সার্জন ও বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করেও তার শরীরে ইনজেকশন পুশ করতে পারেননি। অন্তত ৫০০ গজ দূর থেকে বনকর্মীরা হাতির পায়ে গভীর ক্ষত দেখতে পেয়েছেন।

রামুর বাঁকখালী বনের রেঞ্জ কর্মকর্তা সরওয়ার জাহান জানান, রামুর গর্জনিয়া বাজার থেকে হাইস্কুল সড়ক দিয়ে লম্বাশিয়ার ওই পাহাড়ে যেতে হয়। বিকেল ৪টার দিকে চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাত জুলকার নাইনের নেতৃত্বে বন বিভাগ ও সাফারি পার্কের যৌথ দল হাতিটিকে ব্যথা কমানোর ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সন্ধ্যা হওয়ায় পরে তাঁরা নিরাপদ স্থানে ফিরে আসেন। রোববার সকালেও বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

বনকর্মীরা বলছেন, আহত হাতিটি লম্বাশিয়া বনের ভেতরে আছে। কয়েকটি হাতি ধাক্কা দিয়ে তাকে গহিন জঙ্গলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত চার মাসে সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন ব্যক্তির মৃত্যু ও চারজন পা হারিয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি; অন্যরা রোহিঙ্গা।

এর আগে স্থলমাইন বিস্ফোরণে হাতির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১১ মাসে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় আটটি হাতির মৃত্যু হয়েছে।