ছুরিকাঘাতে আহত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের শিক্ষার্থী মেহেরাজ হোসেন ফাহিম ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন শজিমেকের অধ্যক্ষ ডা. রেজাউল আলম জুয়েল। এ হত্যার প্রতিবাদে শজিমেক ক্যাম্পাস ও হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তার সহপাঠীরা। তারা দ্রুত ফাহিমের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন।

গত ২৩ নভেম্বর ইন্টার্ন চিকিৎসক ফাহিমকে শজিমেক হাসপাতাল গেটে কথা কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাত করে সেখানে ঝালমুড়ি বিক্রেতা শাকিল হোসেন। পরে ফাহিমকে উদ্ধার করে শজিমেকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

এ হত্যার প্রতিবাদে রোববার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন ২৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অর্ঘ রায়, শৈশব রায়, অর্ণব আকন্দ ও আনোয়ারুল আজিম ফাহাদ। তাদের দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন সব অনিবন্ধিত দোকান উৎখাত, দোকানিদের ট্রেড লাইসেন্স যাচাই এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করার পর ব্যবসা করার অনুমতি প্রদান, অবিলম্বে ক্যাম্পাস সংলগ্ন নতুন রাস্তার মোড়ে, লেডিস হোস্টেলের সামনে, ফিরিঙ্গির মোড় ও বিভিন্ন মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, আনসার ও পুলিশ মোতায়েন এবং অন্ধকার পয়েন্টগুলোকে আলোকিতকরণ।
এসব দাবিতে রোববার বিকেলে মেডিকেল কলেজের সামনে অবরোধ শুরু হলে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। পরে কলেজ প্রশাসন ও পুলিশ গিয়ে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
ফাহিম ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে। ছেলেকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ওই দিনই ফাহিমের বাবা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। এ ঘটনার পর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাকিল ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রাসেল আহম্মেদ জানান, ফাহিমের মৃত্যুর ফলে হত্যাচেষ্টার মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে।