পুলিশের ওপর হামলা, ক্ষমতাসীন দলের কর্মসূচিতে ককটেল নিক্ষেপ ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় খুলনা ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির ৩২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া ঝালকাঠির নলসিটি উপজেলায় দলটির ৭৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শনিবার রাতে একটি মামলা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি নেতারা এসব মামলাকে আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ ঠেকাতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সাজানো নাটক অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহার ও নেতাকর্মীর মুক্তির দাবি জানান তাঁরা।

খুলনা ব্যুরো জানায়, পুলিশ বিশেষ অভিযানের নামে খুলনায় নেতাকর্মীর বাড়ি বাড়ি অভিযান চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এ অভিযানে শনিবার বিকেল থেকে রোববার পর্যন্ত বিএনপির ২৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নগরীর কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে মহানগর বিএনপির আহবায়ক শফিকুল আলম মনা এ দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে।

এ সময় জেলা বিএনপির আহবায়ক আমীর এজাজ খান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, জেলার রূপগঞ্জে বিএনপি ও ছাত্রদলের চার এবং আড়াইহাজারে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক আইনের মামলায় দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, ছাত্রলীগ কর্মী রাশিদুল প্রধানের ওপর হামলার মামলায় আফতাব উদ্দিন খোকা, তাইজুদ্দিন, হাজী হুমায়ুন কবির ও আবু হানিফকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত এ মামলায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

আড়াইহাজার থানার ওসি আজিজুল হক হাওলাদার জানান, শনিবার রাতে নাশকতার মামলায় গিয়াস উদ্দিন কাকন ও মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, জেলার নলছিটি উপজেলা শহরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ এনে বিএনপির ২৯ নেতার নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৪৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জুয়েল খান এ মামলা করেন বলে জানিয়েছেন নলছিটি থানার ওসি আতাউর রহমান।

মামলার এজাহারে বলা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চর বহরমপুর সড়কে বাইতুল্লাহ জামে মসজিদ ও এতিমখানার মাঠে নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গোপন বৈঠক করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ৩-৪টি বোমার বিস্টেম্ফারণ ঘটিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান।