বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নে ঝিনাই নদীর সেতু ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। ঝিনাই নদীর এক পাড় ভেঙে যাওয়ায় ঠায় দাঁড়িয়ে আছে সেতুর ভাঙা অংশ। খরস্রোতা নদীতে ঝুঁকি নিয়েই নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের। দুই বছর আগে সেখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণ শুরু হলেও মাত্র তিনটি পিলারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সময়মতো সেতু না হওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের গাফলতিকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা।

২০০০ সালে ঝিনাই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০০৭ সালের বন্যায় এই সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর নিচের পিলারের রড বেরিয়ে আসে। ভেঙে যায় অনেক পিলার। এ ছাড়া ঝিনাই নদীর ভাঙনে সেতুর উত্তর পাশে ৫০০ মিটার অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ। ফলে উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পাঁচটি ইউনিয়ন। উপজেলার উত্তরে রয়েছে কাশিল, বাসাইল, কাউলজানী ও ফুলকী ইউনিয়ন। দক্ষিণে রয়েছে হাবলা, কাঞ্চনপুর, ফতেপুর ও ডুবাইল ইউনিয়ন। মাঝে ঝিনাই নদী। ঝিনাই নদীর ওপর সেতু না থাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে এসব ইউনিয়নের লোকজনকে।

টাঙ্গাইল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, ২৭০ মিটার সেতু নির্মাণের জন্য ২৬ কোটি ৫৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩৯ টাকার দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ২০২০ সালের ২৩ মার্চ সেতুটি নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ পায় ময়নুদ্দিন লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ছয় মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নদীর পাড়ে মাত্র তিনটি পিলার করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

হাবলা গ্রামের ফয়েজ উদ্দিন বলেন, 'সেতু না থাকায় আমরা খুবই কষ্টে আছি। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। তা ছাড়া নদীপাড়ে এসে নৌকা ধরতে না পারলে প্রায় এক ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। সময়মতো পৌঁছানো যায় না।' দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

কাশিল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শহিদুর রহমান জানায়, বর্ষাকালে নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে স্কুলে আসতে হয়। কখন নৌকা ডুবে যাবে- সেই ভয়ে নদী পার হতে হয় তাদের।

কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমজান আলী জানান, জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি নির্মাণ করা দরকার। অপরিকল্পিত খনন ও তীর রক্ষাবাঁধ নির্মাণ না করায় আগের সেতুটি ভেঙে গেছে।

বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলামের ভাষ্য, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত নদীখননের ফলে সেতুগুলো ভেঙে গেছে। লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি। বালুদস্যুরা প্রতিদিন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছে। এতে নথখোলা সেতুটিও হুমকির মুখে।

টাঙ্গাইল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, সেতুটি নির্মাণের সময় বাড়ানো হয়েছে। বর্ষার সময় কাজে ভাটা পড়েছিল। এখন পানি কমেছে, দ্রুতই ঠিকাদার কাজ করবে।