আট বছর পর মানিকগঞ্জ সদর ও পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল বুধবার। এ উপলক্ষে শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (বিজয় মেলা) মাঠে মঞ্চের নির্মাণকাজ চলছে। দুই শাখার শীর্ষ পদে আসতে চান ১০-১২ নেতা। নেতাকর্মীর একটি অংশের কথা- এবার সম্মেলনে কোনো ভোটাভুটি হবে না। তাই পদপ্রত্যাশী নেতারা কাউন্সিলরদের মূল্যায়ন করছেন না। তাঁরা দৌড়াচ্ছেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের সম্মেলনে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন যথাক্রমে ইসরাফিল হোসেন ও আফসার উদ্দিন সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ফুফাতো ভাই ইসরাফিল হোসেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আফসার উদ্দিন সরকার গড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এ দু'জনই মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। যে কারণে এবার সভাপতি পদে ইসরাফিলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রার্থী হয়েছেন আফসার। এই দুই নেতার পক্ষেই নানা স্থানে ব্যানার-ফেস্টুন ও তোরণ তৈরি করেছে কর্মী-সমর্থকরা।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও জাগীর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন প্রার্থী হতে পারেন বলে তাঁদের ঘনিষ্ঠজন জানিয়েছেন।

২০১৪ সালের সম্মেলনে পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি হন মোনায়েম খান। আর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আসেন জাহিদুল ইসলাম। আসন্ন সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে মোনায়েম খানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে আরও চার নেতার সঙ্গে। তাঁরা হলেন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর আরশেদ আলী বিশ্বাস, সহসভাপতি আব্দুস সালাম, আমজাদ হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাউন্সিলর শায়েক শিবলী। তাঁদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে নানা রকম প্রচার চালানো হচ্ছে। শহরের নানা স্থানে স্থাপিত হয়েছে তোরণ। ফেস্টুন ও ব্যানার দিয়ে তাঁরা কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে জাহিদুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল লতিফ তোতা। তিনি সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং প্রভাবশালী পৌর মেয়র রমজান আলীর ভাই। ইতোমধ্যে দু'জনের পক্ষেই নানা প্রচার দেখা গেছে।

দলের বেশ কয়েক নেতাকর্মীর সঙ্গে সম্মেলন বিষয়ে কথা হয় সমকালের। তাঁরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এবারের দুই শাখা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কোনো ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে কাউন্সিলররা প্রার্থীদের কাছ থেকে মূল্যায়ন পাচ্ছেন না।

কয়েকজন পদপ্রত্যাশী নেতা বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। তবে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তাঁদের ভাষ্য, স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপিসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতারাই শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। যে কারণে তাঁদের কাছেই ধরনা দিচ্ছেন।

সম্মেলনে প্রায় ৩০ হাজার জমায়েতের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন সরকার ও পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম। তাঁরা বলেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে সম্মেলন সফল করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। ইতোমধ্যে কাউন্সিলরদের তালিকাও তৈরি হয়েছে।