জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দক্ষিন সুতালড়ী (ভাষন্ডা) গ্রামের কবির বয়াতি নামের এক কৃষকের বিরুদ্ধে ২২টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। ডিবি পরিচয়ে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।

বুধবার বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন কবির বয়াতির বোন মর্জিনা বেগম। এসময় কবির বয়াতির স্ত্রী লাকি বেগম ও মর্জিনার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে মর্জিনা বেগম বলেন, বারুইখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গাউছুল হক দুলাল ও তার লোকজনের সঙ্গে তাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। জমির বিষয়ে দুলালসহ ৮২ জনের বিরুদ্ধে নিষেদ্ধাজ্ঞা থাকলেও তারা জমি দখলের জন্য কয়েকবার হামলা করেছেন। এছাড়া একের পর এক মামলা করে তাকে (মর্জিনা) এবং কবির বয়াতীকে হয়রানি করছেন। তারা পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ ২২টি মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৮টি মামলা মিথ্যা প্রমাণ হওয়ায়, আদালত কবিরকে খালাস দিয়েছেন। দুলালের হাত থেকে বাঁচতে কবির বাগেরহাটে ভাড়া বাসায় থাকা শুরু করেন।

গত সোমবার সকালে ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন লোক বাসা থেকে তাকে তুলে নেয়। পরে জানতে পারেন বাগেরহাট সদরের ডেমা বড়বাশবাড়িয়া এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় কবিরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তিনি আরও বলেন, গত ২৮ আগস্ট মাসুম তালুকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে কবির বয়াতির নামে গরু চুরির মামলা দেন। কিন্তু কবির অন্য একটি মিথ্যা মামলায় ৪ জুন থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাগেরহাট জেলা কারাগারে ছিলেন।

কবিরের স্ত্রী লাকী বেগম বলেন, মিথ্যা মামলায় অধিকাংশ সময়ই জেলে বা পলাতক থাকেন তার স্বামী। প্রতিনিয়ত বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাখাওয়াত বেপারী বলেন, শুধু জমির জন্য তারা শেষ হয়ে যাচ্ছেন। দুলাল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে এলাকার কোন লোক কথা বলে না। ওরা মেরে ফেলারও হুমকি দিয়েছে।

এ ব্যাপারে সবশেষ মামলার বাদী মাসুম হাওলাদার সমকালকে বলেন, তার গরু চুরি হয়েছে তাই মামলা দিয়েছেন। চোর কোথায় ছিল তা তিনি জানেন না।

ইউপি সদস্য দুলাল বলেন, কবির বয়াতি একবার তার ঘেরের মাছ ধরে নিয়েছিলেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে কিছু বিরোধ রয়েছে। যেসব অভিযোগে মামলা কবিরের নামে দেওয়া হয়েছে সেসব অপরাধ কবির করেছেন। তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় নাই।

মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইদুর রহমান বলেন, অপরাধী হলেই কারো বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়। কোনো নিরাপরাধ লোকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার সুযোগ নাই। কবির বয়াতি অপরাধী তাই মামলা হয়েছে।