মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নাশকতার মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করার পর আওয়ামী লীগ নেতার সুপারিশে পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে নাশকতার অভিযোগ এনে সিংগাইর থানায় মামলাটি করেন পরিবহন শ্রমিক লীগ নেতা আকাশ আহমেদ নয়ন। এ মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য কামরুল হাসানের নামও রয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, গত ৩০ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিংগাইরের গাজিন্দা এলাকায় মানিকগঞ্জ-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বিএনপির নেতাকর্মীরা ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশে দেশকে অচল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে কামরুল চলে যাওয়ার পরপরই সড়কের ওপর এলোপাতাড়ি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

এ ঘটনায় পরদিন আকাশ বাদী হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করে সিংগাইর থানায় মামলা করেন। মামলায় কামরুলকে ৯ নম্বর আসামি করা হয়। মঙ্গলবার কামরুলকে গ্রেপ্তার করার কয়েক ঘণ্টা পরই ছেড়ে দেওয়া হয়।

বুধবার তিনি সমকালকে জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমানের সুপারিশে পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেয়। তিনি দাবি করেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাদী এ মামলায় তাঁকে আসামি করেছেন।

এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও বাদী আকাশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুর বলেন, বাদীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে এ মামলায় কামরুলকে আসামি করা হয়ে থাকতে পারে। পরে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনা হয়।

সিংগাইর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্ল্যা বলেন, বাদী ভুল করে এজাহারে কামরুল হাসানের নাম দিতে পারেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন।

তবে মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া যায় কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না।