ব্রিটিশ আমলে ১৯১৯ সালে তখনকার ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড হাটহাজারী ও ফটিকছড়ির সীমান্তবর্তী নাজিরহাট বাজারে হালদা নদীর ওপর লোহার সেতুটি নির্মাণ হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ডিনামাইট দিয়ে সেতুটির একাংশ উড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে সেতুটি মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করে। এরপর আর সেভাবে সংস্কার হয়নি। ফলে বয়সের ভারে জীর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুর মাঝের অংশ দেবে গেছে। যেকোনো সময় ধসে পড়ে ঘটতে পারে প্রাণহানি।
ফটিকছড়ির নাজিরহাট বাজারের উভয় পাশের সংযোগ রক্ষাকারী হালদা নদীর ওপর শতবর্ষী পুরোনো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ভয়ে ভয়ে এটি ব্যবহার করেন স্থানীয়রা। সেতু দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে হাজারো মানুষ পারাপার হচ্ছেন। তবে যানবাহন বন্ধ থাকায় হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলার লাখো মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন নাজিরহাট কলেজিয়েট স্কুল ও নাজিরহাট কলেজের শত শত শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। কলেজশিক্ষার্থী আলী আবদুল্লাহ, আব্বাস, সুইটি ও স্কুলের শিক্ষার্থী ফারহানা, আয়শা, তানিয়া, ইমরুলসহ কয়েকজন জানান, প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সেতু দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। মাঝখানে দেবে গেছে বহু আগে। তখন থেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ। সেতুটি দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু ভেঙে যানমালের ক্ষতি হলেই কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে। হোসাইন জাফর বলেন, সেতুটি বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ গাড়ি নিয়ে বাজারে আসতে পারেন না। এ জন্য নাজিরহাট বাজারের ব্যবসার দুরবস্থা চলছে।
নাজিরহাট আদর্শ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে বাজারে ২-৩ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়। অনেকে পার্শ্ববর্তী বাজারে চলে যাচ্ছেন। এ কারণে নাজিরহাটে ব্যবসায়ীরা খারাপ সময় পার করছেন।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাহরিয়ার কামাল বলেন, সেতুটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় নেই, এলজিইডির অধীনে। এ কারণে তাঁদের কিছু করার নেই। উত্তর চট্টগ্রামের সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোনো সেতুর অবস্থা এমন নেই।
উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, ওই স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত। হালদা নদীকে বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়েছে। সেতু নির্মাণে মাছের ক্ষতি হতে পারে বলে মৎস্য অধিদপ্তর আপত্তি তোলে। এ জন্য নির্মাণকাজ শুরু করা যাচ্ছে না। নকশা মৎস্য অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। নদীতে কোনো পিলার রাখা হয়নি। তাই মাছের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। মৎস্য অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেলে নির্মাণকাজ শুরু হবে।