এ এক অন্যরকম বইয়ের মেলা। এই মেলায় বই কেনাবেচা নয়, বিনিময় হয়। পড়া শেষ, এমন পুরোনো বই বছরের পর বছর ঘরে পড়ে থাকে। এসব বই হতে পারে অন্য কারও প্রয়োজন। কিংবা আপনিও খুঁজছেন অন্য একটি বই। এ ধারণা থেকে বই বিনিময়ের উৎসবের আয়োজন করে ফিল্ম মুভমেন্ট ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজ। বিনামূল্যে ঘরের কোণে পড়ে থাকা পুরোনো বই বিনিময়ের এ উৎসবে শুক্রবার চট্টগ্রামের জামালখান মোড়ে ছিল হাজারো বইপ্রেমীর মিলনমেলা।

তৃতীয়বারের মতো 'বই নয়, জ্ঞানের বিনিময়' এই স্লোগানে চট্টগ্রামে আয়োজিত হয়েছে শীতকালীন বই বিনিময় উৎসব। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় এই উৎসবের উদ্বোধন করেন যুগ্ম সচিব এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান। উদ্বোধন পর্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপসচিব ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল। এ ছাড়া দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাস সুমন ও অভিনেতা নাসির উদ্দীন খান।
বই বিনিময় উৎসবের সমন্বয়ক সাইদ খান সাগর বলেন, 'এবার তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে জামালখানে বই বিনিময় উৎসব। জ্ঞান বিনিময়ের এই উৎসবের শীতকালীন আয়োজন করেছি, কারণ এখন বেশিরভাগ স্কুল-কলেজের পরীক্ষা শেষ। বই পড়ার এটি অন্যতম মৌসুম। এই উদ্দেশ্য বেশ সফল হয়েছে বলে মনে করি।'
৯ বছরের শিশু ঐন্দ্রিলা ভট্টাচার্য মায়ের সঙ্গে এসেছে বই বিনিময় উৎসবে। শিশুতোষ ও ম্যাগাজিন স্টলে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সে খুঁজছিল পছন্দের বই। ঐন্দ্রিলা বলল, আমি গল্পের বই পড়তে পছন্দ করি। পুরোনো কয়েকটি বই নিয়ে মায়ের সঙ্গে এসেছি বিনিময় করতে। আরও ভালো লাগছে আমার পছন্দের 'পারস্য রাজ্যের গল্প' বইটি পেয়েছি।
কলেজ পড়ূয়া সাফওয়ান সামি এসেছে বন্ধুদের সঙ্গে। সাফওয়ান বলে, 'শিক্ষার্থীদের জন্য এমন উৎসব আরও হওয়া উচিত। অনেকের বই পড়ার ইচ্ছা থাকলেও নানা কারণে নতুন বই কিনতে পারে না। বিনিময়ের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা কমে যায়।'