২৫ ডিসেম্বর 'বড়দিন' সামনে রেখে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় হস্তশিল্পের কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে বহুগুণ। বড়দিনের সান্তাক্লজ, ট্রি সাজানোর নানা সামগ্রী তৈরি হচ্ছে। এসব তৈরি করছেন প্রায় দুই হাজার দুস্থ ও বিধবা। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রকৃতির উদ্যোগে উপজেলার পাঁচটি কেন্দ্রে কাজ করছেন নারীরা।

কচুরিপানার কাগজ, জুট পেপার, কটন পেপার, সিল পেপার, শনপাট, ওয়াটার রাইজিং দিয়ে তাঁরা তৈরি করছেন দৃষ্টিনন্দন বড়দিনের সান্তাক্লজ, ক্রিসমাস স্টার, ক্রিসমাস কার্ড, ক্রিসমাস অর্নামেন্ট, ট্রি সাজানোর পণ্যসহ তিন শতাধিক উপহারসামগ্রী।

এসব কেন্দ্রে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী রপ্তানি হচ্ছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, ইতালি, জার্মানি, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে। এসব শৌখিন উপহারসামগ্রী ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। পাশাপাশি বিধবা ও দুস্থ নারীরা খুঁজে পেয়েছেন বেঁচে থাকার অবলম্বন।

মণি বালা (৪৮) কাজ করছেন উপজেলার জোবারপার এন্টারপ্রাইজে। কচুরিপানা আর বড়দিন বিধবা মণি বালার জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তিনি বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তৈরির সুনিপুণ কারিগরদের একজন। তাঁর মতো প্রায় দুই হাজার অসহায় ও দুস্থ নারী সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন।

মণি বালা বলেন, 'অভাবের সংসারে ছেলেমেয়ে নিয়ে কোনোমতে খেয়ে-না খেয়ে বেঁচে ছিলাম। ছয় বছর আগে কাজ শুরু করেছি। এখন তিন বেলা খেতে পারছি।'

মণি বালার সঙ্গী বিধবা বিনা হালদার ও শিউলী বেগম বলেন, তাঁদের তৈরি এসব পণ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজন বড়দিন পালন করে আসছেন। প্রতিদিন একেকজন শ্রমিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা আয় করছেন।

জোবারপার এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার পাপড়ী মণ্ডল বলেন, শ্রমিকদের অধিকাংশই স্বামী পরিত্যক্ত, বিধবা কিংবা অসহায় ও দুস্থ। জোবারপার এন্টারপ্রাইজ, কালুরপাড়ের বিবর্তন, বড়মগড়ার কেয়াপাম, নগরবাড়ির চ্যারিটি ফাউন্ডেশন ও বাগধা এন্টারপ্রাইজে প্রতি বছরই নতুন নতুন নকশার কাজ করা হয়। এখানে তৈরি বড়দিনের পণ্যসামগ্রী দেশ-বিদেশে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।