ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

কারসাজিতে করপোরেট মিলার আড়তদার

কারসাজিতে করপোরেট মিলার আড়তদার

.

 বগুড়া ব্যুরো 

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০০:৪২

দেশে চালের দাম নিয়ে কারসাজিতে খুচরা বিক্রেতা, মিল মালিক, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, আড়তদার– সবাই জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেছেন, চালের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা একে অপরের দোষ দেন। কিন্তু জেলায় জেলায় যখন মুখোমুখি বসা হচ্ছে, তখন তাদের স্বরূপটা বের হয়ে আসছে। কারণ, এর জন্য দায়ী তো আপনারা সবাই। খুচরা ব্যবসায়ীরা দায়ী আছেন, করপোরেটরা তো আছেই, মিল মালিকরা আছেন, আড়তদাররাও আছেন।

গতকাল রোববার বগুড়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণে মিলার, আড়তদার, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন। 
চালের বাজারে সিন্ডিকেট না থাকলেও প্রবণতা আছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রায় প্রতিটি জেলায় দু-তিনজন করে ব্যবসায়ী আছেন, তারা নিজেদের মধ্যে মেসেজ চালাচালি করেন– আজ এই দরে (চাল) বিক্রি করব, আর এই দামে ধান কিনব। যখন একটা শিয়াল ডাক দেয়, তখন সব শিয়াল একসঙ্গে ডাক দেয়। এখন বেয়াদবি মাফ করবেন। এই নয় যে, আমি আপনাদের শিয়াল বলছি। তবে এটাও ঠিক, চালের ব্যবসার বিষয়ে আপনারা শিয়ালের চেয়েও ধূর্ত।

তিনি আরও বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো দাম বাড়ায় না দাবি করে। তবে নওগাঁয় আমরাই ধরেছি। মিল মালিকদের কাছ থেকে কেনা চাল প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা বেশি দাম ধরে ট্যাগ মারা হয়েছে। সেগুলো এখনও সিলগালা করা আছে। 

করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে মিল মালিকদের বড় দায় আছে বলেও মন্তব্য করেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কিন্তু চালকল কম।

 তারা মিল মালিকদের কাছ থেকেই বেশি দামে চাল কেনে। অর্থাৎ চালকল মালিকরাই তাদের বেশি দামে বেচতে উৎসাহিত করছেন। মিলাররা আরেকটি কাজ করেন– বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লিখে মিলগুলোতে প্যাকেট বা বস্তা পাঠায়, তারা শুধু মিল থেকে প্যাকেট করে দেয়। ওইখানেই তারা (করপোরেট প্রতিষ্ঠান) কেজিতে ৭, ৮, ১০ টাকা বেশি দামের ট্যাগ লাগিয়ে দিচ্ছে। তারা (মিল মালিক) এ কাজ করছেন, কারণ ওই টাকাটা আগাম পাচ্ছেন বা নগদ পাচ্ছেন। তাহলে লোভ কিন্তু চালকল মালিকদেরও কম নয়।      
অবৈধ এসব পন্থা থেকে না সরলে বা শোধরালে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। মজুতদারদের লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি সর্বনিম্ন ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। বস্তার গায়ে ধানের জাত উল্লেখ করতে হবে। মিল গেটে চালের রেট লিখতে হবে, উৎপাদনের তারিখ লিখতে হবে। আর ছাঁটাই কমাতে হবে। আমাদের প্রায় ১৬ থেকে ২০ লাখ টন চাল আপনারা বাতাসে উড়িয়ে দেন।

সভায় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে বসে থাকেন; কিন্তু নিয়মিত বাজার মনিটর করেন না। অথচ তাদের নিয়মিত বাজার মনিটর করার কথা। 

বগুড়ার এ সভায়ও মিল মালিক ও আড়তদাররা একে অপরের ওপর দোষারোপ করেন। জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম দুদু বলেন, মিলে কোনো ধান-চাল মজুত করা হয় না। মজুত করেন আড়তদার ও করপোরেট ব্যবসায়ীরা। শহরের রাজাবাজার চালের আড়তদার সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কোনো আড়তেই চাল মজুত নেই। মিলাররাই দালালদের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে ধান মজুত করে রাখেন। 

সভায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রণব কুমার, খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আলম মামুন, জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বক্তব্য দেন। 


 

আরও পড়ুন

×