ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আনোয়ারায় আগুনে ১৮ বসতঘর পুড়ে ছাই, দগ্ধ ৫

আনোয়ারায় আগুনে ১৮ বসতঘর পুড়ে ছাই, দগ্ধ ৫

আগুনে বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ছবি: সমকাল

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১৬:০২

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে ১৮টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ সময় আগুনে ৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। আজ সোমবার রাত ১টার দিকে রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়া গ্রামের বড় হুজুরের বাড়ি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।

আগুনে দগ্ধরা হলেন- মোহাম্মদ জামাল (৪৫), মোহাম্মদ হেলাল (২৮), মোহাম্মদ হাসান (১০), ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহা আক্তার (১৫)।

আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইশতিয়াক মাহমুদ বলেন, আগুনে দগ্ধ ৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়া গ্রামের বড় হুজুরের বাড়ির মোহাম্মদ জামালের ঘরের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের আরও ১৭টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

কান্নাজড়িত কন্ঠে এসএসসি পরীক্ষার্থী তানজিনা আক্তার বলেন, কয়েকদিন পর আমার এসএসসি পরীক্ষা। কিন্তু আগুনে আমার সমস্ত বই পুড়ে গেছে। আমার স্কুলের পোশাকও নাই। আগুন দেখে কোনো মতে আমরা শুধু ঘর থেকে বের হতে পেরেছি। এখন আমি কিভাবে পরীক্ষা দিব, আর বই ও পোশাক কিভাবে পাবো।

আগুনে দগ্ধ জামালের স্ত্রী দিলোয়ারা বলেন, আমার স্বামী অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। আগুন অটোরিকশা ও বসতঘর দুটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়াও আগুনে দগ্ধ হয়ে স্বামী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এখন আমাদের কি হবে, ভাবতে পারছি না। একদিকে আমাদের অভাবের সংসার, অন্যদিকে সর্বনাশা আগুন আমাদের আরও সহায় সম্বলহীন করে দিলো।

ক্ষতিগ্রস্ত মোহাম্মদ ইকবাল জানান, ঘরে থাকা নগদ টাকা, চাল-ডাল, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিছুই বের করা সম্ভব হয়নি। আগুনে সুখের সংসার তছনছ হয়ে গেল। এখন কি করবো, কোনো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।

আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ইনচার্জ মংচং মারমা বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে দুইটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমিন শরীফ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ১৮টি ঘরের যাবতীয় আসবাব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তাদের মাঝে কম্বল ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি পরিবারের মাঝে আজ সন্ধ্যার মধ্যে সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইশতিয়াক ইমন।

আরও পড়ুন

×