ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে আগুন

চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে আগুন

স্বরূপকাঠিতে শনিবার রাতে পুড়িয়ে দেওয়া বিমল কৃষ্ণ বেপারির বাড়ি। সোমবার উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের জুলুহার গ্রাম থেকে ছবিটি তোলা সমকাল

স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২২:৪০

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় বখাটে ও মাদকসেবীরা এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। শনিবার রাতে সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে জুলুহার গ্রামের বিমল কৃষ্ণ বেপারির বাড়িতে ঘটে এ ঘটনা। তবে ওই ব্যবসায়ী এ সময় বাড়িতে ছিলেন না। 
এ ঘটনায় রোববার রাতে বিমলের স্ত্রী রিনা বেপারি বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ থানায় মামলা করেন। পুলিশ ৪ নম্বর আসামি ইলিয়াস হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রতিবেশী সঞ্জয় ও মিল্টন জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে ওই দুর্বৃত্তরা বিমল বেপারির বাড়িতে তাণ্ডব শুরু করে। তারা প্রতিবাদ করলে ঝগড়া হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত হামলাকারীরা ওই বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে গালাগাল করতে থাকে। পরে সেখান থেকে চলে যায়। রাত ৩টার দিকে বিমলের কাঠের তৈরি টিনশেড ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এলাকাবাসী এগিয়ে এসে চিন্ময় বেপারি, শুভ মৃধা, ইলিয়াস, ডিলন শীলকে চিনতে পারেন। 
রিনা বেপারির ভাষ্য, শুরুতে বাড়িতে এসে হামলাকারীরা তাঁর স্বামীর নাম ধরে ডাকাডাকি করে। তিনি সাড়া দিলে দুর্বৃত্তরা বলে, ‘তোর স্বামীকে ডাক। আমাদের ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে।’ বিমল বাড়িতে নেই বললেও শোনেনি। উল্টো গালাগাল করতে থাকে। এভাবে চলে রাত ১২টা পর্যন্ত। গভীর রাতে আবারও এসে ডাকাডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। তারা বের হতে রাজি না হওয়ায় 
চিৎকার করে বলতে থাকে, ‘এখনও ঘর থেকে বের হবি না? দাঁড়া তোদের ঘর থেকে বের করতেছি।’ সঙ্গে সঙ্গেই বারান্দায় রাখা পাটখড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো ঘরে আগুন ধরে যায়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। 
এলাকায় প্রচুর জমিজমা আছে বিমল বেপারির। তিনি সুপারির ব্যবসাও করেন। বিমলের ভাষ্য, হামলাকারী সবাই মাদকসেবী। এলাকায় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। এর আগেও এক দফায় ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। তাঁর স্ত্রী ও কিশোরী মেয়েকেও উত্ত্যক্ত করে আসছিল চক্রটি। শনিবার রাতে তিনি বাড়ি ছিলেন না। এ সময় চিন্ময়ের নেতৃত্বে ইলিয়াস, শুভ, ডিলনসহ কয়েকজন এসে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহিন বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই ব্যক্তির ঘরে থাকা ৫০ মণ ধান, ৫ লাখ টাকার সুপারি, নগদ ২ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাব পুড়ে গেছে। 
সমুদয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বেপারি জানান, হামলাকারীরা আগে থেকেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। বারবার তাদের ও অভিভাবকদের সাবধান করেছেন। তবু শুধরায়নি তারা। 
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সরওয়ার জানান, এ ঘটনায় মামলা নথিভুক্ত করেছেন তারা। রোবরার রাতেই ৩ নম্বর আসামি ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে চেষ্টা চলছে। 

আরও পড়ুন

×