ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বালু লুটছে আ’লীগ নেতা ও ইজারাদার

বালু লুটছে আ’লীগ নেতা ও ইজারাদার

পদ্মাতীর রক্ষায় নির্মিত বাঁধ ধসের শঙ্কা

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২২:৪১

লালপুরে সরকারি ইজারার বাইরে এমনকি ব্যক্তিমালিকানার জমি থেকেও বালু তুলছেন আওয়ামী লীগ নেতা, ঠিকাদারের লোকজনসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা। অবাধে বালু তোলায় যে কোনো মুহূর্তে ধসে যেতে পারে পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধ। এতে আতঙ্কে রয়েছেন পালিদাহ, গৌরীপুর, নুরুল্লাহপুর, লক্ষ্মীপুর, তিলকপুরসহ পাঁচ গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নুরুল্লাহপুর ও লক্ষ্মীপুর। এখানে তিন বছর আগে ব্লক ধসে গেলেও এখন পর্যন্ত মেরামত করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নুরুল্লাহপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, তীর রক্ষার সিসি ব্লক ধসে ভাঙন দেখা দিলে বালুর বস্তা ফেলে গ্রামটিকে সাময়িক ঝুঁকিমুক্ত করা হয়। কিন্তু এবার তীর ঘেঁষেই বালু তোলা হচ্ছে। ফলে ঢেউ আছড়ে পড়ায় তীর রক্ষার সিসি ব্লক আবার ধসে পড়বে। 
২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দিয়ার বাহাদুরপুর মৌজার তিনটি দাগে সাড়ে ৪০০ একর এলাকা বালুমহাল হিসেবে এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। ১৪ কোটি ৮৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় বালুমহালটি ইজারা পায় রাসেল এন্টারপ্রাইজ।
অভিযোগ উঠেছে, ইজারার বাইরে চরজাজিরা, লক্ষ্মীপুর, তিলকপুর ঘাট থেকেও অবাধে তোলা হচ্ছে বালু। চরজাজিরায় ব্যক্তিমালিকানার জমি থেকে বালু তুলছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। 
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েব উদ্দিন জানান, চরজাজিরায় তাঁর সাড়ে ৯ বিঘা জমি রয়েছে। একটি চক্র সেই জমি থেকে ভেকু (এক্সক্যাভেটর) মেশিন দিয়ে মাটি কেটে নিচ্ছে। তাঁর মতো অনেক কৃষকের জমি থেকে জোর করে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে অস্ত্র দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হয়। গত ২৩ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
রাসেল এন্টারপ্রাইজের রবিউল ইসলাম বলেন, এক বছরের জন্য দিয়ার বাহাদুরপুর বালুমহালটি ইজারা নিয়েছি। ইজারা অংশের বাইরে বালু তোলা হচ্ছে না।
রবিউল ইসলামের অভিযোগ, একটি পক্ষ ১০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে না পেয়ে মানুষ ভাড়া করে এনে মিথ্যা অভিযোগ করছে। উল্টো তারাই অবৈধভাবে ঈশ্বরদী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ঘাটের তীর রক্ষা বাঁধ ঘেঁষে বালু তুলছে। প্রশাসন তাদের কিছুই বলছে না। 
ইজারাদারের অভিযোগের পর ঈশ্বরদী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়,  বাঁধ ঘেঁষে প্রকাশ্যে বালু তোলা হচ্ছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজাসহ কয়েকজন এ কাজে জড়িত বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। প্রতিদিন দুই শতাধিক ট্রাকে এসব বালু নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তারা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সেলিম রেজা বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এক পর্যায়ে তিনি সরাসরি কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরাফাত আমান আজিজ বলেন, অবৈধভাবে বালু তোলা বন্ধে অভিযান চলছে। ঘোষিত বালুমহালের বাইরে বালু তোলায় সম্প্রতি রাসেল এন্টারপ্রাইজকে জরিমানা করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×