ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

অবহেলায় শহীদের স্মৃতিস্তম্ভ

অবহেলায় শহীদের স্মৃতিস্তম্ভ

সীমানাপ্রাচীর না থাকায় বেহাল বানিয়াচংয়ের একমাত্র শহীদ মিনারটি সমকাল

 বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২২:৪৬

প্রায় সারাবছর অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকে বানিয়াচংয়ের একমাত্র শহীদ মিনারটি। যত্ন শুরু হয় ২১ ফেব্রুয়ারির আগেভাগে। এ ছাড়া ভাষাশহীদদের এই স্মৃতিস্তম্ভের মর্যাদা রক্ষায় নেওয়া হয় না কোনো পদক্ষেপ।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দু-এক দিন আগে ও পরে ছাড়া বছরের বাকি সময় শহীদ মিনারটি ভাগাড় হয়ে থাকে। শহীদ মিনার দেখভালের কেউ নেই। মিনারের পবিত্রতা রক্ষার্থে জুতা পায়ে প্রবেশ নিষেধ থাকলেও সেটি মানছেন না কেউ। বরং বানিয়াচং শহীদ মিনারটি পরিণত হয়েছে বেকার মানুষদের আড্ডাস্থলে। এই শহীদ বেদিতে বসেই চলে মাদক সেবন ও ধূমপান।
স্থানীয়রা জানান, বানিয়াচং বড়বাজারে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা হয় মোটরসাইকেল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশও হয় এই শহীদ মিনারের ভেতরে। বানিয়াচং বড়বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি কর্তৃক শহীদ মিনারটির পবিত্রতা রক্ষায় সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। তবে এই সাইনবোর্ড কারও চোখে পড়ে না। সকাল থেকে শহীদ মিনারের আশপাশ পরিণত হয় ময়লা ফেলার স্থানে। সন্ধ্যা নামতেই বসে মাদকসেবীদের আড্ডা।
শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, দিনের বেলায় অনেকেই জুতা পরে মিনারের বেদিকে হাঁটাচলা করছেন। মোটরসাইকেল রেখে সেখানে বসে হরহামেশা আড্ডা দিচ্ছে উঠতি বয়সীরা। শহীদ মিনারের ভেতর দিকে বিক্রি হচ্ছে কবিরাজি ওষুধ।
অভিযোগ রয়েছে, শহীদ বেদিতে বসে উচ্ছৃঙ্খল তরুণরা ধূমপান ও মাদক সেবন করে। শহীদ মিনারের মূল বেদিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে সিগারেটের প্যাকেট ও উচ্ছিষ্ট, ছেঁড়া জুতা, খড়কুটো, ময়লা-আবর্জনা। বিশেষ করে মিনারের পূর্বদিকটা অস্থায়ী প্রস্রাবখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। শহীদ মিনারের দু’দিকে স্টিলের পাইপ দিয়ে সীমানা দিলেও সেটি কাজ শেষ করার পরপরই ভেঙে পড়ে যায়। এসব পাইপ কে বা কারা নিয়ে গেছে তাও জানা নেই। বাজারের এক স্যানিটারি ব্যবসায়ী তাঁর পানির ট্যাঙ্ক জমা করে রেখেছেন শহীদ মিনারের ভেতরে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মাস্টার জানান, এমন দৃশ্য দেখার জন্য দেশ স্বাধীন করেননি তারা। শহীদ মিনারের প্রতি মানুষের আচরণই বলে দেয় দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা কেমন। শহীদ মিনারটি যেভাবে মর্যাদাহীন হচ্ছে, এর চেয়ে বড় দুঃখ আর কিছুই হতে পারে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুর রহমান জানান, কেউ যাতে শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট না করে সে জন্য বাজার কমিটির পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকেও দেখভাল করা হচ্ছে। আগামীতে তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন

×