ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট

ফাইনালে ঢাবি ক্রিকেট দলের ওপর হামলা রাবির, ঢাবি প্রশাসনের ক্ষোভ

ফাইনালে ঢাবি ক্রিকেট দলের ওপর হামলা রাবির, ঢাবি প্রশাসনের ক্ষোভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে ঢাবি দলের ওপর হামলা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ও রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২০:৫২ | আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২১:১৯

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের ওপর হামলা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে ঢাবি বনাম রাবির খেলা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশি পাহারায় খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। হামলায় ৪ খেলোয়াড় আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ঢাবির কোচ। পরে আলোক স্বল্পতার কারণ উল্লেখ করে দু’দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি।
 
হামলায় আহত ঢাবির খেলোয়াড়রা হলেন- সিফাত, ইমন, তূর্য, রোকন। তারা সবাই রাজশাহীর ল্যাবএইডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্বাগতিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখোমুখি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় রাবি। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৯ রান করে ঢাবি। জবাবে খেলতে নেমে দারুণ সূচনা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। খেলা ১৩ ওভার চলাকালে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত নিয়ে আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ঢাবির খেলোয়াড়রা। পরে কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে যান। এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর বোর্ডে ১ উইকেটের বিনিময়ে ৯৭ রান জমা হয়। পরে দুই দলের কোচ ও শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে ফের খেলা শুরু হয়। 

১৮ ওভার শেষে ৭ উইকেটের বিনিময়ে রাবির সংগ্রহ দাড়ায় ১৩০ রান। পরের ওভারে বল করতে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেস বোলার তূর্য। তার করা একটি বলে লং অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ব্যাটার। বলটি বাউন্ডারি লাইনে ড্রাইভ দিয়ে তালুবন্দি করেন সাকিব। আউট হয়েছে কিনা সেই সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে মাঠে ঢুকে পড়ে রাবি শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ঢাবির খেলোয়াড়দের ওপর হামলা করেন। হামলায় কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকেও অংশ নিতে দেখা যায়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষনেতাদের সহযোগিতায় ঢাবির খেলোয়াড়দের প্যাভিলিয়নে নিয়ে আসা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়াররা। তখন আলোক স্বল্পতার বিষয়টি উল্লেখ করে দু’দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি। পরে মানবঢাল তৈরি করে পুলিশি পাহারায় খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ঢাবির খেলোয়াড়রা মাঠ ছাড়ার সময় রাবি শিক্ষার্থীদের ‘রাবি-ঢাবি ভাই ভাই, ভয়ের কোনো কারণ নাই’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘মাঠে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ছিল। বিষয়টি আমরা বার বার জানিয়েছি। কিন্তু রাবি কতৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়নি। এমনকি ঢাবি উপাচার্য রাবি উপাচার্যের সঙ্গে কথাও বলেছেন। রাবি উপাচার্য কথা দিয়েছিলেন যে, মাঠের ভেতরে কোনো দর্শক থাকবে না। অথচ ম্যাচের শুরুতে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ গেট ভেঙে মাঠে প্রবেশ করে। যখন ম্যাচ হারার পথে ছিল তখনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠে প্রবেশ করে। পরে তারা আমাদের খেলোয়াড়দের ওপর আক্রমণ করে। এতে আমাদের ৪ খেলোয়াড় আহত হয়।’

নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসহাবুল হক বলেন, ‘খেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মাঠে আমাদের সহকারী প্রক্টর, পুলিশ প্রশাসন মোতায়েন করা হয়। কিন্তু আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। খনিকের মধ্যে বিষয়টি তীব্র আকার ধারণ করে। তার পরেও আমরা খেলোয়াড়দের নিরাপদে মাঠ থেকে সরিয়ে নিয়েছি।’
  
এ দিক হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রথমে শিক্ষার্থীদের জন্য গ্যালারিতে বসার ব্যবস্থা করেছিলাম। আমরা তাদের মাঠে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীরা গেট ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়ে। হামলার ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত। তবে কারা এই হামলার ইন্ধন দিয়েছে বিষয়টি জানতে এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তদন্ত কমিটি গঠন 

হামলার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবিরকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- জিয়া হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সুজন সেন এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী।

ঢাবির ক্ষোভ

হামলার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষোভ জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিম যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে ঠিক তখনই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শত শিক্ষার্থী মাঠে ঢুকে খেলোয়াড়দের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিমের ৫-৬ খেলোয়াড় গুরুতর আহত হন। এ ধরনের হামলা অখেলোয়াড়সুলভ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। আয়োজক হিসেবে পূর্ব থেকেই বিশেষ সতর্কতা ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাবি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল।

আরও পড়ুন

×