ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

গোপনে চার টন সরকারি বই বিক্রি

গোপনে চার টন সরকারি বই বিক্রি

কলাপাড়ায় কেজি দরে বিক্রির পর জব্দ চার টন সরকারি পাঠ্যবই সমকাল

কলাপাড়া ও কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২২:৫০

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচারকালে ৪ টন সরকারি পাঠ্যবইসহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত রোববার রাতে মহিপুর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর ছালেহিয়া আলিম মাদ্রাসার সামনের সড়ক থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোয়াজ্জেমপুর ছালেহিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ কে এম আবু বকর সিদ্দিক সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি তিনি মাদ্রাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বই ঝিনাইদহের ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী শওকত আলীর কাছে কেজি দরে বিক্রি করেন। রোববার গভীর রাতে মাদ্রাসা থেকে বইগুলো নিতে ট্রাক পাঠান তিনি।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সরকারি পাঠ্যবইসহ ট্রাকটি জব্দ করেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ। পরে ট্রাকটি মহিপুর থানা চত্বরে নিয়ে আসা হয়। জব্দ করা এসব বইয়ের বাজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। 
জব্দ বইগুলো ২০২১ ও ২০২২ শিক্ষাবর্ষের। এসব বই মাধ্যমিক স্তরের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি, ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, ক্যারিয়ার শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, চারুপাঠ, কৃষিশিক্ষা, আনন্দপাঠ, গার্হস্থ্য অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিকের ব্যক্তিগত ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে জব্দ করা বইগুলো ওই মাদ্রাসার বলে নিশ্চিত করেছেন বইয়ের ক্রেতা ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী শওকত আলী। তিনি বলেন, তিনি পুরোনো বইখাতা কেনাবেচার ব্যবসা করেন। ওই মাদ্রাসায় পুরোনো কিছু বইখাতা বিক্রি হবে জানতে পেরে যোগাযোগ করেন। পরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কাছ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বইগুলো কেনেন। তবে এগুলো পাঠ্যবই কিনা, সে বিষয়ে তিনি জানতেন না।
সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির বিষয়টি জানতেন না বলে দাবি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আ. মালেক আকন্দের। তাঁর ভাষ্য, পুরোনো কিছু কাগজ বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাঠ্যবই বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এ ঘটনার দায়ভার পুরোপুরি মাদ্রাসা অধ্যক্ষের।
সরকারি পাঠ্যবই বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ উল্লেখ করে কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই অতিরিক্ত থাকলে তা জমা দিতে হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব বই বিক্রির অনুমতি নেই।
 এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে ইউএনও নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ।
বই বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুজ্জামান বলেন, ইউএনও ও উপজেলা বিতরণ, সংরক্ষণ ও নষ্ট পাঠ্যবই বিক্রি কমিটির সভাপতির নির্দেশে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে মহিপুর থানায় অবস্থান করছেন।
কলাপাড়ার ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কী প্রক্রিয়ায় বইগুলো বিক্রি করেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×