ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

গ্রামের ফুলে প্রাণ পাবে শহুরে উৎসব

গ্রামের ফুলে প্রাণ  পাবে শহুরে উৎসব

.

শাহারিয়ার রহমান রকি, ঝিনাইদহ

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২২:৫৪

আড়াই বিঘা জমিতে এবার গাঁদা ফুলের চাষ করেছেন সনজিত দাস। এতে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার তালিনা গ্রামের এ কৃষকের। এরই মধ্যে দেড় লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেছেন। প্রতিবছর বিঘাপ্রতি ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা আয় করেন বলে জানান সনজিত। চলতি মৌসুমে তা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন।
দরজায় কড়া নাড়ছে বসন্ত উৎসব ও ভ্যালেন্টাইনস ডে। ক’দিনের মধ্যেই সরস্বতী পূজা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এসব দিবস সামনে রেখে ঝিনাইদহের ফুলচাষিরা বলছেন, গ্রামের ফুলে প্রতিবছরই শহরের উৎসব প্রাণ পায়। এবারও ব্যতিক্রম হবে না। অন্তত ৩০-৩৫ কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন বুনছেন তারা।
চাষিরা বলছেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এই মৌসুমে ফুলের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। চাহিদা বেশি থাকায় বাড়তি লাভ হয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। ভ্যালেন্টাইনস ডে বা বসন্ত উৎসবের জন্য গোলাপ, জারবেরা, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস ও চন্দ্রমল্লিকার চাহিদা থাকে বেশি। সঙ্গে থাকে গাঁদা ফুলের চাহিদাও।
ঝিনাইদহ সদরের গান্না এলাকার চাষি আদম আলীর ক্ষেতে এবার চন্দ্রমল্লিকা ফুটেছে দুই লক্ষাধিক। গোলাপ রয়েছে ১০ হাজার পিস। আর ছয় হাজার জারবেরা ফুটেছে। আদম আলী বলেন, এবার আয়ের আশা করছেন সাত-আট লাখ টাকা।
গত রোববার গান্না বাজারে প্রতিটি গোলাপ বিক্রি হতে দেখা যায় ৫০ টাকায়। জারবেরার দাম ছিল ১৫ টাকা। আর চন্দ্রমল্লিকা ২ টাকা পিস। প্রতি ঝোপা (গুচ্ছ) গাঁদা বিক্রি হয়েছে গড়ে ৪০০ টাকায়। গতকাল সোমবার এসব ফুলের দাম বেড়ে গেছে ৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। গাঁদা প্রতি ঝোপার দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।
উৎসবের বাজার ধরতে আগেভাগেই পরিচর্যা শুরু করেন কৃষক। তারা জানান, সাধারণত বেলা ১১টার পর মাঠ থেকে গাঁদা তোলা শুরু করেন কিষান-কিষানিরা। বিকেলে শুরু হয় মালা গাঁথা। এতে শ্রমিকের সঙ্গে কৃষকবাড়ির গৃহিণীরাও হাত লাগান। ২০টি মালায় হয় একঝোপা।
কোটচাঁদপুরের তালিনা গ্রামের সীমা রানী প্রায় এক যুগ ধরে ক্ষেত মালিকদের ফুলের মালা তৈরি করে দেন। প্রতি ঝোপায় তাঁর আয় হয় ১২ টাকা।
গাঁদার ঝোপা তৈরির পর বাড়িতে রাখেন কৃষকরা। পরদিন সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কাছাকাছি বাজারে বিক্রি করেন। তবে মাঠ থেকে তুলেই গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, জারবেরা ফুল বাজারে নিয়ে আসেন কৃষকরা। কেননা, এগুলো বিক্রি হয় পিস বা স্টিক হিসেবে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুল মোড়কজাত করে গন্তব্যে পাঠাতে ব্যস্ত থাকেন ব্যবসায়ীরা। 
ফুলের দাম এখন ভালো মিলছে বলে জানান সদর উপজেলার গান্না বাজার ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ধারা বজায় থাকলে ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সদর উপজেলাসহ কালীগঞ্জ, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের বিভিন্ন বাজারে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে।
সূত্র জানায়, এ বছর জেলার ৩৯১ হেক্টর জমিতে নানা জাতের ফুল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গাঁদার পরিমাণই বেশি। দাম ভালো পাওয়ার জন্য ক্ষেত থেকে তোলার পর ফুল সতেজ রাখার ওপর গুরুত্ব দেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-এ-নবী। তিনি বলেন, গ্রাহক পর্যন্ত পৌঁছাতে অনেকটা সময় লেগে যায়। এ জন্য জারবেরা কাটার সঙ্গে সঙ্গে পানিতে রাখতে হবে। গোলাপ পানির ভেতর রেখে হালকা পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। 

আরও পড়ুন

×