ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দুই হাসপাতালের প্রবেশমুখে দোকান নির্মাণ বন্ধের দাবি

দুই হাসপাতালের প্রবেশমুখে দোকান নির্মাণ বন্ধের দাবি

টাঙ্গাইলে হাসপাতালের প্রবেশমুখে দোকান নির্মাণ বন্ধের দাবিতে সোমবার মানববন্ধন করা হয় সমকাল

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০০:২০

টাঙ্গাইলের দুই হাসপাতাল চত্বরে দোকান নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাশাপাশি অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত ও বেসরকারি স্থাপনা অপসারণ করতে বলেছেন তারা। সোমবার হাসপাতাল চত্বরে কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়।
শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়রা এ কর্মসূচি পালন করেন। এতে চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান বলেন, হাসপাতালের প্রবেশমুখে এ ধরনের বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত হবে জানিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, ভবন নির্মাণের ফলে প্রবেশমুখ সংকুচিত হবে। রোগী ও স্বজনদের যাতায়াতে ব্যাঘাত ঘটবে। বাণিজ্যিক দোকান দেওয়ার ফলে হাসপাতাল দালালদের আখড়ায় পরিণত হবে।
হাসপাতাল সূত্র ও ব্যবস্থাপনা কমিটির একাধিক সদস্য জানান, শিলা আনছারী নামে এক ব্যবসায়ী হাসপাতাল চত্বরে জায়গা বরাদ্দ চেয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে আবেদন করেন। তিনি এজেন্ট ব্যাংকের শাখা, এটিএম বুথ এবং স্বাস্থ্যসম্পর্কিত পণ্যের দোকান করবেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থাপনা কমিটি গত ১৩ নভেম্বর এক সভায় তাঁর নামে প্রবেশমুখে ৭৫০ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেন।
চুক্তিপত্রে দেখা যায়, বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকার মধ্যে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে নিতে বলা হয়েছে। ১২ বছর মেয়াদি এ চুক্তিতে মাসিক ভাড়া ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তিন বছর পর পর ১০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। প্রাপ্ত ভাড়া থেকে ১০ শতাংশ মসজিদের উন্নয়নে, ৩০ শতাংশ রোগীকল্যাণ সমিতি, ২০ শতাংশ কর্মচারী সমিতি এবং ৪০ শতাংশ হাসপাতালের উন্নয়নে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও উপপরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব আসে। তখন তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া স্থাপনা নির্মাণের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া বিধিসম্মত হবে না। পরে ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমতি ছাড়াই বরাদ্দ দিয়েছেন। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের এমপি ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বলেন, সভায় রেজ্যুলেশন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিয়মের ব্যত্যয় হয়নি। বরাদ্দ দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন লাগে না। আগেও ক্যান্টিন ও গ্যারেজের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×