ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

করচার হাওরে ধসে গেছে বেকা ও হরিমণের বাঁধ

করচার হাওরে ধসে গেছে  বেকা ও হরিমণের বাঁধ

নির্মাণের আগেই নদীতে ধসে গেছে সুনামগঞ্জের করচার হাওরের হরিমণের বাঁধ। সোমবার তোলা সমকাল

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০০:২১

সুনামগঞ্জের করচার হাওরের বেকা ও হরিমণের বাঁধের বড় একটি অংশ নদীতে ধসে গেছে। এতে অর্ধলক্ষাধিক কৃষকের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসকসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে বাঁধ পূর্বদিকে সরিয়ে দ্রুত নতুন স্থান দিয়ে করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে কৃষকরা বলছেন, বাঁধ পূর্বদিকে সরালেই হবে না; ভাঙনও ঠেকাতে হবে। তা না হলে বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা থেকেই যাবে। 
সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা মিলিয়ে করচার হাওর। এখানে জমির পরিমাণ প্রায় ছয় হাজার হেক্টর। বিশাল হাওরপাড়ে গ্রাম আছে অর্ধশতাধিক। এসব গ্রামের ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বোরো ধানের চাষ করেন। হাওরের পশ্চিমাংশে খরস্রোতা ঘটঘটিয়া নদী। মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল এই নদী দিয়ে ভাটিতে নামে। নদীপাড়ের হরিমণের বাঁধ ও বেকা বাঁধ হাওরবাসীর জন্য প্রতিবছর উদ্বেগের কারণ হয়। ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ করার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই দুই বাঁধের দুই অংশে ধস শুরু হয়েছে। তিন দিন আগে বাঁধে ভাঙন দেখা যায়। সেই ভাঙন অব্যাহত আছে।
রাধানগরের কৃষক কামাল উদ্দিন বললেন, বাঁধ ধসে যাওয়ায় পুরো হাওরপাড়ে দুশ্চিন্তা ভর করেছে। দ্রুত বাঁধ সরিয়ে মজবুতভাবে না করলে লাখো কৃষকের কপাল ভাঙবে। 
বিশ্বম্ভরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার বর্মণ বলেন, মূল বাঁধের অর্ধেকাংশ নদীতে ধসে গেছে। এখন বাঁধ পূর্বদিকে সরিয়ে যেভাবে মাটি দেওয়া হচ্ছে, সেভাবে টিকবে না। বাঁধ দুর্বল হয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। নদীপাড়ের ভাঙন ঠেকিয়ে যতটা সম্ভব সোজা করে বাঁধ করতে হবে। কাজ শেষ করে জিওব্যাগ দিতে হবে দুটি ভাঙন স্থানেই।
গত রোববার জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নদীতে ধসে যাওয়া বাঁধ পরিদর্শন করেছেন। কী কারণে বাঁধ নদীতে ধসে গেছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে দ্রুত মজবুত করে অন্য দিক দিয়ে বাঁধের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ইউএনও মফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কাজও দ্রুত নতুনভাবে করা হবে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, কৃষকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। আমরা বাঁধটির দিক পরিবর্তন করে দ্রুত কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। 
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল বলেন, বাঁধের দিক পরিবর্তন করে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×