ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বাবাহারা যমজ তিন ভাইয়ের মেডিকেলে চান্স, খরচ যোগাতে না পেরে হতাশ মা

বাবাহারা যমজ তিন ভাইয়ের মেডিকেলে চান্স, খরচ যোগাতে না পেরে হতাশ মা

মেডিকেলে চান্স পাওয়া ৩ ভাই। ছবি-সমকাল

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০৫:৩৩ | আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১০:২৬

মফিউল হাসান, শাফিউল হাসান ও রাফিউল ইসলাম আদম্য মেধাবী বাবাহারা তিন যমজ ভাই সরকারি মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়ে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়েছে। যমজ তিন সহোদরের বাড়ি ধুনট উপজেলার বথুয়াবাড়ি গ্রামে।

তারা ২০২০ সালে ধুনট সরকারি নইম উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করে। এরপর বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে ২০২২ সালে জিপিএ-৫  পেয়ে এইচএসসি পাশ করে। তিন জনের মধ্যে মফিউল ২০২৩ সালে ঢাকা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়ে সেখানে ভর্তি হয়েছে। ২০২৪ সালে শাফিউল দিনাজপুর সরকারি এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে ও রাফিউল নোয়াখালী সরকারি আব্দুল মালেক মেডিকেল কলেজে ভর্তির চান্স পেয়েছে। যমজ তিন সহোদরের অভাবনীয় সাফল্যে শুধু বথুয়াড়ি গ্রামই নয়, গোটা উপজেলায় যেন আনন্দের জোয়ার বইছে।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে বথুয়াবাড়ি গ্রামে গিয়ে কথা হয়, আদম্য মেধাবী যমজ তিন ভাইয়ের রত্নগর্ভা মা আরজিনা বেগমের সঙ্গে। ছেলেদের সাফল্যে বিধবা আরজিনা বেগম খুশিতে আত্মহারা হয়েছেন।

দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া আরজিনা বেগম জানান, ৩ ছেলে ও এক মেয়ে রেখে স্বামী স্থানীয় মাঠপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম মোস্তফা ২০০৯ সালে মারা যান। সেসময় আদম্য মেধাবী মাফিউল, শফিউল ও রাফিউল শিশু শ্রেণির ছাত্র। স্বামী মারা যাওয়ার পর এতিম ৪ সন্তান নিয়ে আরজিনা বেগম অনেকটাই দিকহারা হয়ে পড়েন। ৪ সন্তানের লেখাপাড়ার খরচসহ পরিবারের বোঝা মাথায় নিয়ে বিধবা আরজিনা খাতুন শক্তি ও সাহস নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান। স্বামীর জমিজমা বন্দক রেখে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার প্রতি মনোযোগী হন। মেয়ে মৌসুমি আকতারসহ যমজ তিন ছেলের মেধার কাছে হার মেনে তিনি বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া নিজের ৩ বিঘা জমিও বিক্রি করতে দ্বিধা বোধ করেননি। মেয়ে মৌসুমি বগুড়া সরকারি আজিযুল হক কলেজে সম্মান শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। মফিউল ঢাকা সোহরাওয়ারর্দী মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত এবং সদ্য প্রকাশিত এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির ফলাফলে  সরকারি মেডিকেলে কলেজে চান্স পেয়েছে শফিউল ও রাফিউল।
 
আরজিনা বেগম বলেন, আমার জমি না হয় শেষ হয়েছে তবুও এতিম ছেলে ও মেয়ে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার রাস্তায় দিয়েছি। তবে অভাব-অনটনের সংসারে মেয়ে মৌসুমীকে কীভাবে বিয়ে দেবেন এবং যমজ তিন ছেলের লেখাপড়ার খরচ কীভাবে বহন করবেন সেই চিন্তা তাড়া করে ফিরছে রত্নগর্ভা এ মায়ের।

আরও পড়ুন

×